ভিনসেন্টের মৃত্যু ও একটি প্রশ্ন

0
381

তাঁর লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম খুলে নেওয়ার এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পরে বৃহস্পতিবার মারা গেলেন ভিনসেন্ট ল্যাম্বার্ড।
২০০৮ সালে গাড়ি দুর্ঘটনায় অসাড় হয়ে যায় তাঁর মস্তিষ্ক। বহুদিন আগেই ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন, ফরাসি নাগরিক ভিনসেন্টের আরোগ্যের সম্ভাবনা নেই। তারপর থেকেই তুমুল বিতর্কের কেন্দ্রে ভিনসেন্ট। তাঁকে ঘিরে চলতে থাকে আইনি লড়াই। তাঁর গোঁড়া ক্যাথলিক বাবা-মা আর দুই সহোদর একদিকে, অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী, বাকি ৬ ভাই এবং এক ভাগ্নে।
বাবা-মা চেয়েছিলেন ভিনসেন্টকে বাঁচিয়ে রাখা হোক। অন্যদিকে, স্ত্রীর বক্তব্য, তাঁকে মরতে দেওয়াই উচিত। সেটাই হবে অনেক বেশি মানবিক। দীর্ঘদিন এই আইনের লড়াই চলে। তাতে জড়িয়ে পড়ে ফ্রান্সের বিচারব্যবস্থাও। জড়িয়ে পড়ে ইউরোপিয়ান কোর্ট আর রাষ্ট্রসংঘও। গত মে মাসে এমনকী, পোপও বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। টুইটে তাঁর কথা, জীবন ঈশ্বরের দান। জীবনকে সবসময় রক্ষা করতে হবে।
অবশেষে গত সপ্তাহে সবরকম আপিল ফুরোনোর পর উত্তর ফ্রান্সের রেইমস শহরের ডাক্তাররা তাঁর লাইফ সাপোর্ট খুলে দেন। এরপরও বিতর্ক ফুরোয়নি। স্বেচ্ছামৃত্যু নিয়ে ফরাসি আইন প্রশ্নের মুখে পড়ে।
স্ত্রী রাচেলের বক্তব্য, তাঁর স্বামী এমনকী, দুর্ঘটনার আগেও বলতেন কৃত্রিমভাবে তিনি বেঁচে থাকতে চান না। অন্যদিকে, নানারকম ডাক্তারি পরীক্ষা জানিয়ে দেয়, ভিনসেন্টের বাঁচার কোনও সম্ভাবনাই নেই। গত ২৮ জুন আদালত ভিনসেন্টের লাইফ সাপোর্ট খুলে নিতে নির্দেশ দেয়। শেষপর্যন্ত বাবা-মা নিরুপায় হয়েই মেনে নিয়েছেন ছেলের মৃত্যু।