পেঁয়াজের হরেক গুণ

0
106

একটি বড় পেঁয়াজে ৮৬.৮ শতাংশ জল, ১.২ শতাংশ প্রোটিন, ১১.৬ শতাংশ শর্করা জাতীয় পদার্থ, ০.১৮ শতাংশ ক্যালসিয়াম, ০.০৪ শতাংশ ফসফরাস ও ০.৭ শতাংশ লোহা থাকে। এছাড়া পেঁয়াজে ভিটামিন এ, বি ও সি আছে। এটি ফলিক এসিডের খুব ভালো উৎস। এছাড়া এতে সালফার, ক্রোমিয়ামও আছে। তাই পেঁয়াজের আছে নানান গুণ।
ঠান্ডা-কাশিতে সেরা ঘরোয়া চিকিৎসা ও প্রতিকারক হচ্ছে পেঁয়াজের রস। শ্লেষ্মা বা কফ কমাতে পেঁয়াজে থাকা তেল সাহায্য করে। পেঁয়াজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সালফার, তন্তু, পটাসিয়াম, ভিটামিন-বি এবং ভিটামিন-সি। এসব উপাদান দেহের চর্বি, কোলেস্টেরল এবং সোডিয়াম-এর পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। কাঁচা পেঁয়াজ নিয়মিত খাবার অভ্যাস করলে, ঘুমের সমস্যা অবশ্যই দূর হবে। কানের ব্যথায় পেঁয়াজের রস অনেক কার্যকরী। পেঁয়াজ এসেনশিয়াল অয়েল সমৃদ্ধ। এই অয়েল কানের ব্যথা দূর করে দেয় যাদুর মতই। পেঁয়াজ টুকরো উনুনে সেঁকে বা সেদ্ধ করে তা থেকে রস বের করে নিন। এই রস কুসুম গরম অবস্থায় কানে লাগালে ব্যথায় আরাম পাবেন। চুল পড়া রোধ করার জন্য মাথায় পেঁয়াজের রস ব্যবহার করুন। এটি পেঁয়াজের সব থেকে বড় সুবিধা। পেঁয়াজ চুল পাকার সমস্যাও রোধ করে।
ত্বকের কাল দাগ দূর করার জন্য পেঁয়াজ ও হলুদের রস একসাথে মিশিয়ে লাগিয়ে রাখুন। কালো দাগ সব মিলিয়ে যাবে। কিন্তু যাদের এলার্জির সমস্যা আছে, তাদের ত্বকে অতিরিক্ত পেঁয়াজ ব্যবহার না করাই শ্রেয়। পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক সালফার যৌগ আছে যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আর সালফারে রয়েছে এমিনো এসিড।এই এমিনো এসিড গুলোকে মিথিওনাইন ও সিস্টাইন বলা হয়। এই উপাদানগুলো শরীরকে বিভিন্ন টক্সিন থেকে মুক্তি দেয়। পেঁয়াজ ভিটামিন সি এর উৎস যা শরীরকে বিশুদ্ধ করে। হিট স্ট্রোক হলে যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব কাঁচা পেঁয়াজের রসের সাথে চিনির মিছরি মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। পেঁয়াজ ঠাণ্ডা হওয়ায় এর রস পায়ের পাতায় ঘষলেও বেশ উপকার পাওয়া যায়। জন্ডিসের জন্য একটি পেঁয়াজের এক-চতুর্থাংশ সারারাত লেবুর রসে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকালে সেই জল খেলে উপকার পাওয়া যাবে।