জঞ্জাল ছাড়াচ্ছে তাজকেও

0
150

আগামি বছরের মধ্যেই দিল্লির জঞ্জালের স্তূপ উচ্চতায় চাপিয়ে যাবে তাজমহলকেও। বিশ্বের দূষিততম রাজধানীর প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকবে সেটি।
দিল্লির পূব প্রান্তে গাজিপুরে এই ধাপার মাঠ। সেখানে যত্রতত্র ঘুরে বেড়ায় গরু, কুকুর আর ধেড়ে ইদুর। উড়ে আসে শুকুন আর কাকেরা। তার সঙ্গে বাতাস ভারী করে ধোঁয়া। আয়তন মাপলে দশটা ফুটবল মাঠ ঢুকে যাবে এই জঞ্জালের ভাগাড়ে।
প্রতিবছর ১০ মিটার করে উঁচু হচ্ছে এই জঞ্জালের স্তূপ। তা কমবার নামই নেই। এখনই এটি ৬৫ মিটার বা ২১৩ ফুট উঁচু। এভাবে চললে ২০২০ সালে তা বেড়ে হবে ৭৩ মিটার। মাথায় তাজমহলকে ছাপিয়ে যাবে। ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট সতর্ক করে বলেছে, এরপর তো জঞ্জালের চুড়োয় লাল আলো জ্বালাতে হবে, যাতে আকাশের জেট বিমান ধাক্কা না খায়।
গাজিপুরের ভাগাড় তৈরি হয়েছিল ১৯৮৪ সালে। ২০০২ সালেই তা ভরে ওঠে কানায় কানায়। তখনই তা বন্ধ করার কথা ছিল। তা হয়নি। দিল্লির নানা প্রান্ত থেকে শয়ে শেয় লরিতে করে জঞ্জাল এসেই চলেছে। প্রতিদিন কমকরেও ২ হাজার টন জঞ্জাল জড়ো হচ্ছে গাজিপুরে।
গতবছর বৃষ্টিতে জঞ্জালের পাহাড় ভেঙে মারা গিয়েছিল ২ জন। তারপর জঞ্জাল ফেসা বন্ধ করা হলেও স্থানাভাবে দিন দুয়েক পরে তা ফের চালু হয়ে যায়। মাঝেমধ্যেই বেরিয়ে আসে মিথেন গ্যাস। সেখান থেকে তরল কালো টক্সিক লিচেট বেরিয়ে মিশছে পাশের খালে। নষ্ট হচ্ছে ভূগর্ভস্থ জলও।
আশপাশের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে লোকজনের শ্বাসের কষ্ট, পেটের রোগ রয়েছে। সরকারি হিসেবই বলছে, ২০১৩ থেকে পরের ৫ বছরে বায়ুদূষণের বলি হয়েছেন ৯৮১ জন।