উধাও ডাইনির হাড়

0
429

তিনশো বছর আগে ডাইনি সন্দেহে তাঁর মৃত্যুদণ্ড হয়। আদেশ হয়, জ্বলন্ত চিতার ওপর দাঁড় করিয়ে তাঁকে পুড়িয়ে মারতে হবে। তার আগেই আত্মহত্যা করে মারা যান তিনি। তাঁকে বিশাল পাথরে চাঁইয়ের নীচে কবর দেওয়া হয়।
১৭০৪ সাল। স্কটল্যান্ডের টোরিবার্ন গ্রামের ঘটনায লিলিয়াস অ্যাডি একজন ডাইনি বলে সন্দেহ হয় তাঁর প্রতিবেশি জাঁ বিজেটের। তার অভিযোগ ছিল, শয়তানের সঙ্গে যৌনসম্পর্ক করেছেন লিলিয়াস। এরপর তা কবুল করানোর জন্য জেলের ভিতরে মাসখানেক তাঁর ওপরে চলে অকথ্য অত্যাচার। তা সহ্য করতে না পেরে জেলের ভিতরে আত্মঘাতী হন লিলিয়াস। তা সত্ত্বেও তাঁকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল কাঠের স্তূপে। তারপর শয়তান যাতে তাঁর ওপর ভর করতে না পারে সেজন্য তড়িঘড়ি তাঁকে ফিফের সৈকতে কবর দেওয়া হয়।
তারপর বহু চেষ্টা করেও গবেষকরা ওই কবরে লিলিয়াসের হাড়গোড় খুঁজে পাননি। এখন, এত যুগ পর, কর্তৃপক্ষ আবেদন করেছে, লিলিয়াসের দেহাবশেষ ফিরিয়ে দেওয়া হোক। তাঁকে একটা সম্মানজনক গোর দেওয়ার জন্যই এই আবেদন। তাঁর মৃত্যুর ৩১৫ বছর পর তাঁর শূন্য কবরে ফুল, মালা দেওয়া হয়। তোড়জোড় চলছে তাঁর একটা স্মারক তৈরি করারও।
স্কটল্যান্ডে একসময় ডাইনি অপবাদে বহু মানুষকে নির্মমভাবে মরতে হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ চান, আধুনিক স্কটল্যান্ড সেই অতীতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়ের নির্দোষ শিকার বলে মৃতদের তুলে ধরতে। তাদের আশা, লিলিয়াসের হাড় তাঁরা হাতে পাবেনই।
১৪০০ সালের গোড়া থেকেই গোটা ইউরোপ ডাইনি আতঙ্কে ভুগেছে। ১৫০০ থেকে ১৬৬০ সালের মধ্যে ডাইনি সন্দেহে মারা হয়েছে ৮০ হাজার মানুষকে। তাদের বেশিরভাগই নারী।