ভাইবোনের গল্প

0
796

ভাইয়ের নিশানায় বোন। ভাই ছত্তিশগড়ের পুলিশের গোপনীয় সৈনিক ভেত্তি রাম। আর বোনভেত্তি কান্নি মাওবাদী নেত্রী। ২৯ জুলাই জুলাই সাকলে সুকমার বেলাংটংয়ের জঙ্গল ঘিরে তল্লাশিতে গিয়েছিলেন ১৪০ পুলিশকর্মী। তাদের নেতৃত্বে ভেত্তি রাম। সারারাত চলে সেই তল্লাশি। তাদের লক্ষ্যে কান্নির কোন্টা এরিয়া কমিটির ৩০ জনের মাওবাদী দল।
পুরো এলাকা যখথন ঘেরাবন্দি, তখনই চোখাচোখি হয় ভেত্তি আর কান্নির। হঠাৎই কান্নির লোকজন ভেত্তির দিকে তাক করে গুলি চালাতে শুরু করে। জবাব দেয় পুলিশও। দুজন মাওবাদী সেই ভয়ঙ্কর গুলির লড়াইয়ে মারা যায়। কোনওমতে পালিয়ে যায় কান্নি।
কান্নির বয়স ৫০, ভেত্তির ৪৩। আজ দুই ভাইবোন একে অপরের বিপরীতে দাঁড়িয়ে। ভেত্তি বলেছেন, তিনি কান্নিকে গুলি করে চাননি। কিন্তু ওর দলবলই গুলি চালিয়েছে। তাই পাল্টা গুলি চালাতে হয়েছে। কান্নি গুলি চালাচ্ছিল। তারপর মিলিয়ে যায় জঙ্গলে।
কান্নির মাথার দাম এখন ৫ লাখ টাকা। এখন সে মাওবাদীদের হয়ে আইন আদালত সামলায়। পুলিশের গুলিতে নিহত কমরেডদের পরিবারের দেখভাল করে। তেলেঙ্গানা লাগোয়া বাস্তারের কোন্টা দিয়েই আসে মাওবাদীরা। এলাকার প্রায় ১১৬টি গ্রাম মাওবাদীদের নিয়ন্ত্রণে। তার মধ্যে ৫০টি গ্রাম তাদের মুক্তাঞ্চল বলে মাওবাদীদের দাবি। সেখানে চলে তাদের জনতা আদালত।
নয়ের দশকে গগনপল্লি গ্রামের ভেত্তি আর কান্নি যোগ দিয়েছিন মাওবাদী সংগঠনে। কিন্তু মোহভঙ্গ হওয়ায় ২০১৮ সালে আত্মসমর্পণ করে ভেত্তি। সেসময় তার মাথার দাম ছিল সাড়ে ৬ লাখ টাকা। কয়েকমাস পরে চাকরি পায় পুলিশে।
তারপর বোনকে মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনতে অনেক চেষ্টা করেছে ভেত্তি। কান্নি তাকে বিশ্বসঘাতক বলে গালমন্দ করে ফিরিয়ে দিয়েছে। বলেছে, আমি লোভী নই। আমি বিপ্লবী। আমি বিশ্বাসঘাতক হতে পারব না। স্ত্রীকে নিয়ে এখন ভেত্তি সুকমার পুলিশ আবাসনে থাকে। ভেত্তি এখনও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কান্নিকে ফেরাতে। আর কান্নি বিভোর দিনবদলের সশস্ত্র স্বপ্নে। (হিন্দুস্তান টাইমস)