ছবির বয়স ৮০

0
456

ফুটফুটে একটা মেয়ে। বাগানে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে তার সেরা পোষাকে পোজ দিয়েছে ক্যামেরার সামনে। ছবিটার বয়স ৮০ বছর। তার বাবা ফ্রান্সিস্কো গনজালেজ কুদ্রাদো ছবিটি তুলেছিলেন মেয়ের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে। দূরে আলজেরিয়ার খনিতে কাজ করতেন ফ্রান্সিস্কো।
গত সপ্তাহে সামনে এসেছে ছবির পিছনের পুরো গল্পটা। এখন সেই মেয়েটি পাকুইতা জোর্দার বয়স ৮৩। ছবিটি ফিরে এসেছে তাঁর কাছে। ফ্রান্সের সীমান্তের ঠিক ওপারে এখন তার বাস। “হারানো স্মৃতি” প্রকল্পে কাজ করেন যে ঐতিহাসিক, তিনিই খুঁজেপেতে বের করেছেন ছবিটি। তাঁর কাজ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি শিবিরে যাদের আটক বা বন্দি করা হয়েছিল, তাদের গল্প আর তথ্য জোগাড় করা।
ঐতিহাসিক আন্তোনিও মুনোজ স্পেনের এক বন্দির ফাইল ঘাঁটতে গিয়ে হাতে পান ছবিটি। শিবিরের রক্ষীরা ছবিটি বাজেয়াপ্ত করেছিল। সেই সূত্র ধরে এইমাসে আন্তোনিও পাকুইতার বাড়ি গিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছেন তার শৈশবের ছবি। পাকুইতার গ্রাম ফন্ট-রেমিউ। বিশ্বযুদ্ধের পর তার বাবা-মার পুনর্মিলন হয়েছিল।
স্পেনের গৃহযুদ্ধের সময় তার পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তারপর তার বাবা চলে যান আলজেরিয়ায় খনিতে কাজ করতে। সেখান থেকে যুদ্ধের সময় ফ্রান্সে। ১৯৪৫ সালে ফ্রান্সিস্কো মুক্তি পান। তখন তার ওজন ৪০ কেজি। পাকুইতো বেড়ে ওঠেন তাঁর ঠাকুমা-ঠাকুর্দার কাছে। পরে তাঁকে তাঁর বাবা-মার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।