ভোট পিছতে কমিশনে মুকুল, হাতিয়ার ‘হাইকোর্টের রায়’

0
970

পুর নির্বাচনের জন্য তৈরি দল। একথা জানিয়ে এর আগে বহুবার বিবৃতি দিয়েছেন বঙ্গ বিজেপির বহু শীর্ষনেতা। তবুও এপ্রিলের মাঝামাঝি ভোট হলে আপত্তি বিজেপির। বৃহস্পতিবার ভোট পিছনোর দাবি জানাতে রাজ্য নির্বাচন কমিশনে দরবার করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা মুকুল রায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জয়প্রকাশ মজুমদার ও শিশির বাজোরিয়া। কমিশনের দফতর থেকে বেরিয়ে মুকুল রায় বলেন, এপ্রিলের মাঝামাঝি ভোট হলে প্রচার করা সম্ভব নয়। কারণ ওই সময় উচ্চ মাধ্যমিক ও আইসিএসসি বোর্ডের পরীক্ষা চলবে। ফলে প্রচারে মাইক ব্যবহার করা যাবে না। তাঁর অভিযোগ, শাসকদল বিরোধীদের প্রচারে বাধা দিতেই এই সময়টা বেছে নিয়েছে।

রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে কী বললেন মুকুল রায়? তিনি জানালেন, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হচ্ছে ৩০ মার্চ। ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচার শেষ করতে হয়। তাহলে প্রচারের ১০ দিন সময় থাকছে। এত কম দিনে প্রচার করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী বিধি মেনে প্রচারের জন্য কমপক্ষে ২৪ দিন প্রচারের সুযোগ দিতে হয় রাজনৈতিক দলগুলোকে। এই দাবির সপক্ষে তিনি পূর্বে কলকাতা হাইকোর্টের একটি রায়ের প্রতিলিপিও জমা দিয়েছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনে। এদিনও তিনি স্পষ্ট করে দেন, বিজেপি যে কোনওদিন ভোট হলে লড়াই করতে প্রস্তুত। তবে প্রচারের ফলে যাতে কোনওভাবেই পরীক্ষার্থীদের অসুবিধার মধ্যে পড়তে না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে। সূত্রের খবর, এবার কলকাতা সহ রাজ্যের অন্যান্য পুরসভায় ব্যালটে ভোটগ্রহণ হতে পারে। রাজ্যের যুক্তি, এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভোট হলে ভোটকর্মীদের ইভিএম ট্রেনিং দেওয়া সম্ভব নয়, তাই ভোট হোক ব্যালটে। রাজ্য সরকারের এই দাবি মেনে নিতে পারে কমিশন। এই প্রসঙ্গে শাসকদলকে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না বিজেপি নেতা মুকুল রায়। তিনি বলেন, কেউ যদি রাজ্যকে দশ বছর পিছিয়ে নিয়ে যেতে চায় তবে আমাদের কী বলার থাকতে পারে। তিনি জানিয়ে দিলেন, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড ও শেষে দিল্লিতেও ইভিএম-এ ভোট হল। বাংলার ক্ষেত্রেই যত সমস্যা। আসলে এটা রাজ্যকে পিছিয়ে দেওয়ার প্রবণতা, দাবি মুকুলের।