ওজন কমানোর কিছু টিপস

0
78

কিছু অভ্যাস বদলে ফেললে ওজন কমানোয় সুবিধা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সারাদিনের যত খাবার আছে তার মধ্যে প্রাতরাশ হতে পারে স্বাস্থ্যের দিক দিয়ে সবচেয়ে উপকারী। যারা প্রাতরাশ এড়িয়ে চলে তাদের ওজন বাড়ার এবং ধমনীতে বিপজ্জনক চর্বি জমা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যারা প্রাতরাশ এড়িয়ে গেছে বা অতি সামান্য খেয়েছে ভালোভাবে স্বাস্থ্যসম্মত প্রাতরাশ করা ব্যক্তিদের তুলনায় তাদের ধমনীতে চর্বি জমে বেশি। খালি পেটে থাকা অবস্থায় রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ারও লক্ষণ ধরা পড়েছে। প্রাতরাশ এড়িয়ে গেলে হরমোনের ভারসাম্যহীনতাও দেখা দেয়।
ওজন কমাতে হলে চিনিযুক্ত সোডা ত্যাগ করুন কিংবা কম খান। সপ্তাহে একটা করে ক্যান কম খেলে দু’বছরে এক পাউন্ড ওজন কমতে পারে বলে এক জরিপে দেখা গেছে। কোমরের বেড় বেশি হওয়ার সঙ্গে চিনিযুক্ত পানীয়ের যে সম্পর্ক আছে তা অসংখ্য সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে।
ইতালির ডায়েটে প্রচুর ফল, সবজি, বাদাম, দানাদার শস্য, অলিভ অয়েল ও চর্বিযুক্ত প্রাণিজ প্রোটিন থাকে। রেড মিট ও অন্যান্য কম চর্বির এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার ও পরিশোধন করা চিনিও থাকে অল্প পরিমাণে ইতালি ও স্পেনের মতো ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলোর এগুলোই হলো ঐতিহ্যবাহী খাবার।এমন ডায়েট অনুসরণ করা হলে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ স্তনক্যান্সার ও অন্যান্য রোগ হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। এর একটা কারণ এসব খাবারের মধ্যে প্রদাহনাশক ও এ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান প্রচুর পরিমাণে থাকে।
তবে ব্যায়ামের গুরুত্বও কিছুমাত্র কম নয়। ব্যায়াম শরীরে জমা বাড়তি ক্যালোরি পুড়িয়ে ওজন কমাতে সাহায্যে করে। ওজন কমাতে হলে আপনি যতটা ক্যালরি গ্রহণ করছেন তার চেয়ে বেশি পরিমাণ ক্যালরি পুড়িয়ে ফেলা প্রয়োজন। তাছাড়া ব্যায়াম হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, মেদবহুলতা, অস্টিও পোরোসিস ও কয়েক ধরনের ক্যান্সারসহ নানা রোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।
ওজন কমাতে হলে ভাল ঘুম হওয়া প্রয়োজন। রাতে অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুম হলে চিনি খাওয়ার চাহিদা কমে যায়। পরোক্ষভাবে তা ওজন কমাতে সাহায্য করে। পুরো খাবার ভালমতো চিবিয়ে খাওয়া হজমের জন্যই যে শুধু ভাল তাই নয়, এতে পেট ভরে খাওয়ার অনুভূতি হয় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, এমনকি কমানোও যায়। কৃত্রিম চিনি চিনি খাওয়া ৪ লাখের বেশি লোকের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে যে যারা ওজন বৃদ্ধি ঠেকাতে এমন চিনি খেয়েছে তাদের ওজন তো কমেইনি বরং বেড়েছে।
তবে ওজন কমাতে ব্যায়াম শুরু করার পর অল্প কয়েক কিলো ওজন বাড়লে হতাশ হবেন না। ওজন বাড়লেই যে শরীরে বাড়তি মেদ জমা হয়েছে এটা নিশ্চিতভাবে মনে করার কারণ নেই। স্বল্পমেয়াদী ওজন পরিবর্তনের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দায়ী হলো জল। ডিহাইড্রেশন ঠেকানোর জন্য শরীর অনেক সময় বাড়তি জল জমিয়ে রাখে যার জন্য সামান্য কিছু ওজন বাড়তে পারে। সেই হিসেবে ব্যায়াম বাদ দিলে প্রথম দিকে কয়েক কিলো ওজন কমতে পারে।