দম ফেলার সময় নেই সুনীলের

0
263

শোলার সাজ তৈরিতে এখন বেজায় ব্যস্ত সুনীল মালাকার। তিনি উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের দক্ষিণ আখানগর শোলাশিল্পী। বাপের বাড়ি কৈলাশ থেকে দুর্গা কতটা সেজেগুজে আসেন তা নিয়ে শান্ত্রে দ্বিমত থাকতেই পারে। কিন্তু এখানে দেবীকে অলঙ্কারে সাজানোর দায়িত্বে মালাকার শিল্পীদের।
শুধুমাত্র প্রতিমা বা মণ্ডপ নির্মাণ কিংবা আলোকসজ্জা নয়, শারদীয়ার অন্যতম আকর্ষণ দেবীর অলঙ্কারও। তাই এখন মালাকার শিল্পীদের দম ফেলার সময়নেই। দুর্গাপ্রতিমাকে সালাঙ্করা করে তুলতে দিনরাত কাজ চলেছেন তাঁরা। জমকালো বুলন সেটের সাজে দেবীর উজ্জ্বলতা যেন বৃদ্ধি পায় বহুগুণ। বিভিন্ন জায়গা থেকে শোলাগাছের কাণ্ড কিনে এনে শুকিয়ে নানান ডিজাইনে কেটে তৈরি হয় দেবীর অলঙ্কার।
আর সেই প্রতিমা দেখতে যখন মণ্ডপে মন্ডপে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা, তখনও এই শিল্পীদের পরিবার ব্যস্ত থাকে শোলার অলঙ্কার তৈরিতে। এই কাজ তাঁদের বাপ ঠাকুরদার আমলে থেকে চলে আসছে।
এই শোলা আনতে হয় জেলার ইটাহার ব্লক ও মালদা জেলার বিভিন্ন ব্লক থেকে। শিল্পীরা আরও জানান, যুগ যুগ ধরে দেবীর অলঙ্কার তৈরি করে আসছেন। তাই এবারেও বেজায় ব্যস্ত মালাকার শিল্পীরা। তাঁদের হাতের তৈরি শোলার অলঙ্কার শুধু এই জেলায় নয়, পাশের জেলা সহ ভিন রাজ্যে যায়। পাইকার বা মৃৎশিল্পীরা এসে শোলার তৈরি দেবীর অলঙ্কারগুলি নিয়ে যায়।
সুনীল মালাকারের ৭০ বছরে সহধর্মিনী মায়া মালাকার জানান, সংসারের সমস্ত কাজ মিটিয়ে যতটা সময় পান তা তিনি তার স্বামীকে সহযোগিতা করেন। তাঁর স্বামীর কাজ থেকেই তিনি কাজ শিখেছেন। যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন কাজ চালিয়ে যাবেন তাঁরা।