নুনের বিপদ

0
93

নুন ছাড়া খাবার হয় না। বেশি দিলেও যেমন খাওয়া যায় না, কম বা না দিলেও খাবারযোগ্য থাকে না। তেমনি নুন বেশি খেলে, কম বা না খেলেও শরীরের ক্ষতি হতে পারে। লবণের ভালো-মন্দ দুইটি দিক রয়েছে। নুন নার্ভ সেলের কার্যকলাপের জন্য খুবই জরুরি। লো ব্লাড প্রেসারের জন্য উপকারী, মাংসপেশী ব্যথা প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়াও সর্দি কমানো, সাইনাসের কনজেশন ভাব দূর করতে লবণ সাহায্য করে। শুকনো কাশির সময় মুখে সামান্য লবণ রাখলে ঘন ঘন কাশির হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
নুন এক ধরনের স্ট্রেস ফুড। এটি সিমপ্যাথেটিক নার্ভ সিস্টেমকে উদ্দীপিত করে যা স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বাড়ায়। ঘাম বেশি হয়ে নুন শরীরে পানি ধরে রাখে। তাই নুন বেশি খেলে হাই ব্লাড প্রেসারের আশঙ্কা থাকে। খাবারে বাড়তি নুন খাওয়ার ফলে পাকস্থলীর আস্তরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ধীরে ধীরে পাকস্থলীতে ক্ষত সৃষ্টি হয়। নুন হাড় থেকে ক্যালসিয়াম শুষে নেয়, শরীর থেকে বর্জ্য বের হবার কাজে ব্যাঘাত ঘটায়। এর জন্য ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি, বাতের সমস্যা দেখা যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দৈনিক ৪-৫ গ্রামের বেশি নুন খান তাঁদের এই সমস্যা বেশি হয়। তাই প্রতি ১.৫-২ গ্রামের বেশি নুন খাওয়া যাবে না। রান্নার সময় যতটা প্রয়োজন ততটা নুন ব্যবহার করতে হবে। খাবার টেবিলে বারবার নুনদানি থেকে কাঁচা নুন নিয়ে খাওয়ার অভ্যাস কমাতে হবে। যেসব খাবারে নুন বেশি থাকে যেমন- আচার, প্যাকেটজাত স্যুপ, পনীরের বার্গার বা স্যান্ডউইচ, আলুচিপ, পপকর্ন এসব খাওয়া কমাতে হবে। ডিজেনারেটিভ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নুন খাওয়া একেবারেই বাদ দিতে হবে।