ঝুঁকির পারাপার

0
117

বারোমাসই বলেত গেলে প্রাণ হাতে পারপার। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের দ্বারকেশ্বর নদীর উপর দমদমি ঘাটে কোনও সেতু না থাকায় উলিয়াড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তত পনেরোটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা নৌকা। অসংখ্য ছাত্রছাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন জীবন জীবিকার তাগিদে প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই কোনওরকম যাত্রী সুরক্ষা ছাড়াই নৌকাতেই পারাপার করেন।
সম্প্রতি রাজ্যের পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় রূপনারায়ণে নৌকাডুবির ঘটনার পরেও হুঁশ ফেরেনি প্রশাসনের। লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই নৌকাতেই যাতায়াত করছেন মানুষ। এলাকার মানুষ জানিয়েছেন, উলিয়াড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় পনেরোটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন এই নদীপথ দিয়েই মহকুমা শহর বিষ্ণুপুরে যান। গ্রীষ্মকালে হাঁটু জল থাকলেও বছরের বেশীরভাগ সময় দ্বারকেশ্বরে প্রচুর পরিমাণে জল থাকায় একমাত্র ভরসা নৌকা।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন বাগদী বলেন, যাত্রী সুরক্ষার কোনও ব্যবস্থা নেই। প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই তাঁরা নৌকাতেই নিত্য যাতায়াত করেন। নৌকায় নদী না পেরোতে চাইলে প্রায় ছ’সাত কিলোমিটার ঘুরে বিষ্ণুপুর শহরে পৌঁছাতে হবে। অমিত ভুঁই নামে এক ছাত্র বলেন, যাতায়াতের ভরসা একমাত্র নৌকাই। বিশেষতঃবর্ষায় নদীতে যখন প্রচুর জল থাকে তখন সমস্যা আরো তীব্র হয়। তবুও প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে হয়। এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে পারে যদি দ্বারকেশ্বর নদীর দমদমি ঘাটে একটি স্থায়ী পাকা সেতু তৈরি হয় তবেই বলে সে জানিয়েছে।
নৌকা চালক রেজাউল মল্লিক বলেন, দু’বছরের জন্য ১৬ লাখ টাকায় এই ঘাটের ডাক রয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের মাত্র এক টাকা ও অন্যান্য সাধারণ যাত্রীদের কাছে তিন টাকার বিনিময়ে তারা পারাপার করেন। যাত্রী সুরক্ষা বিষয়ে প্রশাসনের তরফে তাদের কোনও নির্দেশ বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, দুর্ঘটনা যে কোনও সময় ঘটতেই পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই তারা নৌকায় তাদের পারাপার করেন বলে তিনি জানান। বিষ্ণুপুর মহকুমাশাসক মানস মণ্ডল জানিয়েছেন, এবিষয়ে বিষ্ণুপুর পঞ্চায়েত সমিতিতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সভা ডাকা হয়েছে। ওই জলপথে যাত্রী সুরক্ষার কথা ভেবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। তা না হলে ওই এলাকায় নৌকা চলাচল প্রশাসন বন্ধ করে দেবে বলেও তিনি জানান।