কাল্পনিক ‘রাইস পুলার’ বেচে অভিনব প্রতারণা

0
233

কাল্পনিক ‘রাইস পুলার’ বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতানোর অভিযোগে দিল্লির দুই বাসিন্দাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগ করেছেন দিল্লিরই আরেক ব্যবসায়ী নরেন্দ্র। অভিযুক্তদের নাম নিতিন মোহন ও বীরেন্দ্র মোহন। সম্পর্কে পিতা-পুত্র। এবার আসা যাক ‘রাইস পুলারে’র কথায়। বলা হয়ে থাকে এটি একধরনের অষ্টধাতু নির্মিত পাত। যার মধ্যে চাল জাতীয় শস্যকে আকর্ষণ করার বিরল ক্ষমতা রয়েছে। যদিও এধরনের ধাতুর অস্তিত্ব নিয়ে সংশয় রয়েছে বিজ্ঞানী মহলেও। এবার আসা যাক প্রতারণার ঘটনায়। প্রায় তিন বছর আগের কথা। নরেন্দ্রের সঙ্গে পরিচয় হয় বীরেন্দ্রের। সেসময় বীরেন্দ্র তাকে তাকে রাইস পুলারের কথা জানায়। নিজেকে একটি মার্কিন ধাতু সংস্থার এমডি হিসেবে নিজের পরিচয় বীরেন্দ্র। সে আরও জানায়, এটি খুবই মূল্যবান। বজ্রপাতের দ্বারা এটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। নাসা ও ডিআরডি’ওর বিজানীদের কাছে এর চাহিদা আকাশ ছোঁয়া। এই ধাতুর কেনা-বেচা শুরু করতে পারলে রাতারাতি আরও বড়লোক হওয়া যাবে। রাজি হয়ে যান নরেন্দ্রও। এরপরে বীরেন্দ্রের পরামর্শে একটি রাইস পুলার কিনেও ফেলেন নরেন্দ্র। তাঁদের মধ্যে একটি মউ চুক্তিও হয়েছিল বলে জানা গেছে। বীরেন্দ্র তাকে জানায়, রাইস পুলারটি ৩৭,৫০০ কোটি টাকার বিনিময়ে নাসার কাছে বিক্রি করার ব্যবস্থা করে দিতে পারবে সে। কিন্তু রাইস পুলারটির কার্যকারিতা সম্পর্কে জানতে হলে ডিআরডিও বিজ্ঞানীদের সহায়তায় পরীক্ষা নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। কিন্তু এটি খুবই ব্যয়বহুল। এই জন্য কয়েক ধাপে নরেন্দ্রের কাছ থেকে ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ে বীরেন্দ্র। যথাসময়ে বিজ্ঞানীও আসেন। কিন্তু পরীক্ষা নিরীক্ষা আর শেষ হয় না। এভাবেই চলছিল বিষয়টি। কিন্তু সম্প্রতি বীরেন্দ্র ও বিজ্ঞানীর আসল পরিচয় জানতে পারেন নরেন্দ্র। তিনি জানতে পারেন, দিল্লিতে একটি নিজস্ব মোটর গ্যারেজ চালায় বীরেন্দ্র। আর বিজ্ঞানীটি হল তার বাবা নীতিন। এরপরেই প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।