মৃণাল-সত্যজিৎ সম্পর্ক

0
36

প্রায় এক নিঃশ্বাসেই উচ্চারিত হয় তিনজনের নাম। সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন এবং ঋত্বিক ঘটক। তিনজনেই স্বনামে খ্যাত। কেমন ছিল সত্যজিৎ আর মৃণালের সম্পর্ক। মৃণাল নিজেই জানিয়েছেন, দুজনের মধ্যে ছিল গঠনমূলক সমালোচনার সম্পর্ক। কখনও কখনও দুজনের মতপার্থক্য এসেছে প্রকাশ্যেই। ২৭টি ফিল্মের পরিচালক মৃণাল বলতেন, তাঁর ছবি অনেকটাই গবেষণার, সত্যজিতের মতো কালজয়ী হওয়ার মতো ছবিময় নয়।
১৯৬৫ সালে দুজনের মধ্যে ১৯টি চিঠির উতোরচাপান চলে। মৃণাল সেনের আকাশ কুসুম ছবির সমালোচনা করেছিলেন সত্যজিৎ। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন ছবিটির প্রাসঙ্গিকতা নিয়েই। তাঁর মতে, ছবির বিষয় নেহাতই পুরানো, সমসাময়িক নয়। যেন ঈশপের গল্পের সেই কাকটচার মতো, যে পাথরের নুড়ি ফেলে কলসির জল খাওয়ার চেষ্টা করেছিল। পাল্টা দিয়েছিলেন মৃণালও। তাঁর কথায় চার্লি চ্যাপলিনও ঈশপের গল্পের কাকের কথা বলেছেন। এই তর্ক চলতেই থাকে, যতক্ষণ না যে পত্রিকায় চিঠিগুলি ছাপা হচ্ছে তারা ছাপা বন্ধ করে।
ভুবন সোম নিয়েও তিক্ত সমালোচনা ছিল সত্যজিতের। মৃণাল পরে বলেছিলেন, সংবাদমাধ্যম তাঁদের দুজনের সম্পর্ক নিয়ে খারাপ কিছু লিখে নিষ্ঠুর আনন্দ পেত। খোলখুলিই তিনি বলেছিলেন, সত্যজিতের অভিযান, অরণ্যের দিনরাত্রি আর অশনি সঙ্কত তাঁর ভালো লাগেনি। তবে অপরাজিত যে সত্যজিতের সেরা ছবি সেকথা তিনি বহুবার বলেছেন।
১৯২৩ সালের ১৪ই মে বাংলাদেশের ফরিদপুরে জন্মেছিলেন মৃণাল সেন। মঙ্গলবার তাঁর ৯৬তম জন্মদিনে এই পরিচালককে শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে বাংলার সংস্কৃতি জগৎ। মাত্র পাঁচমাস আগেই নিজের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মৃণাল সেন। সিনেমায় সাউন্ড টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ শুরু করলেও পরে পরিচালক হিসেবে বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। তাঁকে ১৯৮৩ সালে পদ্মভূষণ এবং ২০০৩ সালে দাদাসাহেব ফালকে সম্মানে সম্মানিত করা হয়েছে।