কর্মশালায় অধিকাংশই তৈরি রাম মন্দির, ব্যবহার হচ্ছে গোলাপি বেলেপাথর

0
316

বহু প্রতীক্ষিত অযোধ্যা মামলার রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ। বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমির পুরোটাই পেয়েছেন রামলালা বিরাজমান। ফলে রাম মন্দির নির্মানে আর বাঁধা রইল না। ফলে শুরু হয়েছে জোরদার তৎপরতা। অযোধ্যার বিতর্কিত জমির তিন কিমি দূরেই একটি জায়গায় চলছে রাম মন্দির নির্মানের কাজ। মানে সেখানে এক কর্মশালাতে মন্দিরের কাঠামো তৈরি হচ্ছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অধীনে রাম জন্মভূমি ন্যাস এই কাজ করে চলেছে বিগত কয়েক বছর ধরেই।

নকশা একটা তৈরি হয়েই ছিল প্রায় ৩০ বছর আগে। সেটাই কিছুটা পরিবর্ধিত করে তৈরি হবে রাম মন্দির। মন্দির আদৌ তৈরি করা যাবে কিনা সেই নিয়ে সংশয় থাকলেও মন্দির নির্মানের কাজ থেমে থাকেনি। অযোধ্যার সরযূ নদীর তীরে বিখ্যাত ভাস্কর চন্দ্রকান্ত সোমপুরা এই মন্দিরের নকশা তৈরি করেছেন। অনেকটা গান্ধিনগরের অক্ষরধাম মন্দিরের আদলেই হবে অযোধ্যার রাম মন্দির।

বিশালাকায় দোতলা এই মন্দিরের দৈর্ঘ্য হবে ২৬৮ ফুট, প্রস্ত ১৪০ ফুট। ১২৮ ফুট উচুঁ হবে প্রস্তাবিত রাম মন্দির। প্রথম তলায় থাকবে রামের মূর্তি এবং দোতলায় রাম-লক্ষ্মন-সীতার মূর্তি। দ্বিতীয় তলাকে বলা হচ্ছে রাম দরবার। এই মন্দিরের জন্য বিশেষ গোলাপি রঙের বেলেপাথর আনা হয়েছিল রাজস্থান থেকে। বহুমূল্য এই পাথর দিয়েই তৈরি সংসদ ভবন, রাষ্ট্রপতি ভবন বা লালকেল্লার মতো সৌধ। এই গোলাপি বেলেপাথরের খ্যাতি বিদেশেও সমাদৃত। প্রায় তিন দশক ধরে রাজস্থান থেকে ধাপে ধাপে নিয়ে আসা হয়েছে ওই বিশেষ গোলাপি বেলেপাথর। সেখান থেকেই আগরা, মির্জাপুর, রাজস্থান ও গুজরাটের শিল্পীরা খোদাই করে তৈরি করছেন মন্দিরের থাম, খিলান সহ বিভিন্ন অংশ।

সূত্রের খবর, এই মন্দির তৈরি করতে প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার ঘনফুট পাথর ব্যবহার হবে। মোট ছয় ভাগের এই মন্দির দেশের অন্যতম সুদৃশ্য মন্দির হতে চলেছে বলেই দাবি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের। দুতলা মিলিয়ে মোট ২১২টি থাম থাকছে প্রস্তাবিত রাম মন্দিরে, কোনটা ১৬ ফুটের তো কোনটা ১৪ ফুট উচ্চতার। আটকোনা গর্ভগৃহে ১৬ ফুটের বেদিতেই স্থাপিত হবে রামলালার মূর্তি, আর গর্ভগৃহের গম্বুজের উচ্চতা ১৩২ ফুট। এছাড়া মন্দিরে চন্দনকাঠের তৈরি মোট ২৪টি দরজা থাকবে বলেই জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। ভক্তদের দানেই হচ্ছে মন্দির নির্মান।