বুলবুলের দুঃস্বপ্ন কাটেনি সুন্দরবনে

0
123

বুলবুল ঘূর্ণিঝড়ের দুঃস্বপ্ন আজও ভুলতে পারছেন না সুন্দরবনের মানুষ। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় দিনকে দিন বেড়েছে বেড়েছে ক্ষতির পরিমাণ। ক্ষতির মুখে বসতবাড়ি, চাষের জমি, জমির ফসল। ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে সরকারিভাবে। দক্ষিণ সুন্দরবনের একাধিক গ্রামে কিন্তু ক্ষতিপূরণ নিয়ে সংশয় দানা বেঁধেছে।
অধিকাংশ চাষিরা দাবি করেছেন, আমন চাষের পাশাপাশি শীত মরশুমে ফসলের ক্ষতির মুখে পড়েছে দক্ষিণ সুন্দরবনের চাষিরা। বিশেষ করে আমন ধান চাষে বেশি ক্ষতি হয়েছে। ২০০৯ সালে আয়লা ঘূর্ণিঝড় হওয়ার পর চাষ করতে পারছিলেন না চাষিরা । অধিকাংশ খাল সমুদ্রগর্ভে চলে যাওয়ার পাশাপাশি চাষের জমি নোনা জলে গ্রাস করে নেওয়ায় চাষ বন্ধ হয়ে পড়ে। সব বাধা কাটিয়ে আবারও যখন চাষ করতে শুরু করেন চাষিরা, তখনই বুলবুল ঘূর্ণিঝড় তাঁদের বিঘার পর বিঘা জমির ক্ষতি করে বলে দাবি করেন।
খরা মরশুমের আবারও শুরু হয়েছে চাষ। ঝড়ের জেরে অগ্রহায়ণে যে চাষ শুরু হওয়ার কথা মাঘ মাসে তার বীজ রোপন করতে হচ্ছে গঙ্গাসাগর ব্লকের একাধিক জায়গায়। অনেক জায়গায় খাল না থাকায় পুকুরের জলের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে অনেকের। একদিকে খরার মরশুমে চাষের খরচ বেশি অন্যদিকে, জল সঙ্কট নিয়ে সংশয় দানা বেঁধেছে। ফলে আবারও বৃষ্টির জলের উপরই নির্ভর করতে হচ্ছে অনেকের।
ধবলাট, গঙ্গাসাগর, মুড়িগঙ্গা এক, মুড়িগঙ্গা দুই, রুদ্রনগর, ধসপাড়া বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে শুরু হয়েছে বোরো চাষের কাজ। চলতি বছরে ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ জমিতে চাষ হচ্ছে বলে দাবি সাগর পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি ও সেচ সমবায় কর্মাধ্যক্ষ স্বপন প্রধানের। ২০১৮-২০১৯ বর্ষে সাগর ব্লকে একাধিক জায়গায় খাল সংস্কার হয়েছে । চলতি বছরে আরও এগারোটি খাল সংস্কার হবে। ফলে চাষ নিয়ে যে জল সঙ্কটের সমাধান মিলবে বলে দাবি সাগর বিধায়ক বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা।