পাক টিভিতে নিষিদ্ধ ভ্যালেন্টাইনস ডে

0
34

না চাঁদ রহ গয়ে, না সিতারা রহি গয়ি। কেয়া হাম সারি জিন্দগি কুঁওয়ারা রহেঙ্গে। রোজ হোতে হ্যায় হাজারোঁ নিকাহ দুনিয়া মে, কেয়া হমারি কিসমত মে ছোয়ারে রহ গয়ে।
পাকিস্তানে ট্রাকের পিছনে লেখা অজানা কবির কবিতার টুকরো সেদেশের ক্রম বর্ধমান অবিবাহিত পুরুষের দীর্ঘশ্বাস মাখানো। আকাশে বাতাসে এখন প্রেম। তবু ভ্যালেন্টাইনস ডে-র এর হপ্তা আগে পাকিস্তানের ইলেকট্রনিক মিডিয়া রেগুলেশন অথরিটি টিভি চ্যানেলগুলিকে মনে করিয়ে দিয়েছে, কোনওভাবেই ভ্যালেন্টাইনস ডে দেখানো যাবে না। গতবছর ইসলামাবাদ হাইকোর্ট খোলা জায়গায়, সরকারি দপ্তরে আন্তর্জাতিক ভালোবাসা দিবস পালনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
কিন্তু তাতে কি চেপে রাখা যায় ভালোবাসা। ভালোবাসার মানুষের জন্য উপহার কিনতে কে ঠেকাতে পারে! ফুল ব্যবসায়ীরা অর্ডার নিতে শুরু করেছেন। রেস্তোরাঁয় শুরু হয়েছে বুকিং এক সপ্তাহ আগে থেকেই। পাকিস্তানের শুদ্ধবাদীরা দাবি করেন, ভ্যালেন্টাইনস নয়, দিনটা পালিত হোক হায়া বা পুণ্য দিবস হিসেবে।
পাকিস্তানে ক্রমাগত বেড়েই চলেছে অবিবাহিতের সংখ্যা। তাদের যেমন বাড়ি ভাড়া পেতে অসুবিধে হয়, তেমনই মুশকিল হয় প্রেমের জন্য নিভৃত জায়গা পাওয়া। তবু ভালোবাসা বনাম পুণ্যের লড়াইয়ের মধ্যেই অবিবাহিতরা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে প্রেমের দিকেই। ১৯৯৭ সালের আদমসুমারিতে পাকিস্তানে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বিবাহিতের সংখ্যা ৬৩ শতাংশ। ২০১৭ সালের সেন্সাস রিপোর্ট এখনও প্রকাশিত না হলেও জানা যাচ্ছে, বিবাহিত পুরুষ-মহিলার সংখ্যা কমে গিয়েছে। অনেকটাই বেড়েছে বিয়ের বয়স। পাশাপাশি ডিভোর্সের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। ১৯৯৮ সালে তা ছিল ০.৩৮ শতাংশ, গতবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৬ শতাংশ।