দুই শহর ও একটি মূর্তি

0
22

জাপানের ওসাকা শহর আর আমেরিকার সান ফ্রানসিস্কোর “ভগিনী শহর” নয়। সে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে ওসাকা। বিতর্কের মূলে একটি মূর্তি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি সৈনিকদের যৌন সেবাদাসী হয়ে কাজ করতে হয়েছিল মহিলাদের। তাদেরই মূর্তি বসানো হয়েছে সান ফ্রানসিস্কোয়। এতেই চটে গিয়েছে ওসাকা। জাপানি শহরের মেয়র হিরোফুমি ইওশিমুরা জানিয়েচেন, ওই যৌনদাসী স্মারক দুই শহরের বিশ্বাসের সম্পর্ক শেষ করে দিয়েছে।
মূর্তিটি তিন মহিলার। একজন চিনের, আরেক জন কোরিয়ার, তৃতীয়জন ফিলিপিনসের। তারা হাত ধরাধরি করে বৃত্তের মধ্যে দাঁড়িয়ে। ইতিহাস বলছে, জাপানি সামরিক বেশ্যালয়গুলিতে কম করেও ২ লাখ মহিলাকে রাখা হয়েছিল।
ওই মূর্তি আগে ব্যক্তিগত জায়গায় বসানো হয়েছিল। গত নভেম্বরে সেটিকে স্বীকৃতি দেয় আমেরিকা। নাম হয়, নারীশক্তির স্মারক। এখানে সেইসব মেয়েদের দেখানো হয়েছে যারা সেসময় ওই বেশ্যালয়ে কাজ করেছে। তাদের রাঁধুনি বা ধোবানি করা হবে বলে দেখিয়ে আনা হয়েছিল।
১৯৫৭ সাল থেকে সান ফ্রান্সিস্কোর সিস্টার সিটি ওসাকা। গত নভেম্বরেই ওসাকা তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল। কিন্তু ডিসেম্বের সান ফ্রানসিস্কোর মেয়র এড লি মারা যাওয়ায় ঘোষণা পিছিয়ে যায়। তাঁর জায়াগয় কৃষ্ণাঙ্গী লন্ডন ব্রিড এখন মেয়র হয়েছেন। তাঁকে দশ পাতার চিঠি পাঠিয়েছেন ওসাকা মেয়র ইয়োশিমুরা। তাঁর বক্তব্য, মূর্তির পাদদেশে লেখা কথাগুলো ইতিহাসের একপেশে দাবি। কেননা, কজন যৌনদাসী ছিলেন, কজন জাপানি সেনা এতে জড়িত ছিলেন, যুদ্ধের সময় কতটা ক্ষতি হয়েছিল তা নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়েছে। মূর্তির পাদদেসে লেখা রয়েছে, ১৯৩১ থেকে ১৯৪৫ পর্যন্ত জাপানি রাজকীয় সেনার হাতে এশিয়ার ১৩টি দেশের লাখ লাখ যৌনদাসীর যন্ত্রণার স্মৃতিতে এই স্মারক।
এরপরেও ৬০ বছরের পুরানো সম্পর্ক ছেদ করতে চায় না সান ফ্রানসিস্কো। তাদের কথা, একজন মেয়র কখনই দুই শহরের মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক নষ্ট করতে পারেন না। ওই স্মারক মূর্তিগুলি মহিলাদের লড়াইয়ের স্বীকৃতি।