বিয়ের সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষেই নতুন করে চার-হাত এক হল বৃদ্ধ দম্পতির

0
470

কথায় আছে আশিতে আসিও না। তাই আশির দোরগোড়ায় দাঁড়ানো ‘যুবক’ প্রভাস চন্দ্র দত্ত নতুন করে সাঁতপাকে বাঁধা পড়লেন সত্তর পাড় করা ‘যুবতী’ অনিমা দত্তের সঙ্গে। সেই ১৯৬৯ সালে চার হাত এক হয়েছিল তাঁদের। এরপর সংসারের বোঝা কাঁধে নিয়ে দুজনেই পার করে এসেছেন ৫০টি বছর। এই সময়ের মধ্যে তিন ছেলে-মেয়ের বিয়ে হয়েছে। বর্তমানে চার নাতি-নাতনিও রয়েছে প্রভাসবাবু ও অনিমাদেবীর। রবিবার ছিল তাঁদের বিবাহ বার্ষিকীর সুবর্ণ জয়ন্তী। আর এই দিনটাই এক্কেবারে আলাদাভাবেই পালন করলেন ওই দম্পতির ছেলেমেয়েরা। পুরোদস্তুর বিয়ের রীতিনীতি মেনেই ফের একবার চার-হাত এক হল ও দম্পতির। সকাল থেকেই বাঁকুড়ার ইন্দাসের ডিভিসি অফিস পাড়ায় প্রভাস চন্দ্র দত্তের বাড়িতে ছিল সানাইয়ের সুর। আর এই অন্যধরণের বিয়ের সাক্ষী থাকতে সকাল থেকেই হাজির ছিলেন পাড়ার বাসিন্দারা। রবিবার সকাল থেকে বাড়িতে উৎসবের পরিবেশ। বিয়ের সমস্ত আচার অনুষ্ঠান মেনে প্রভাসবাবু ও অনিমাদেবীকে বর ও কনের বেশে সাজিয়ে নতুন করে বিয়ের অনুষ্ঠান হল। সেখানে মালা বদল থেকে সিঁদুর দান বাদ গেলনা কিছুই। সেই সঙ্গে ছিল আত্মীয় স্বজন থেকে পাড়া প্রতিবেশীদের নিয়ে ভূরিভোজের আয়োজন। আর দাদু-ঠাকুমার এই অভিনব বিয়ের অনুষ্ঠান মোবাইল ক্যামেরায় বন্দী করে রাখতে ব্যস্ত থাকল নাতি-নাতনিরা।


কেন এমন অভিনব আয়োজন? ছেলে মানবাশিস দত্ত জানিয়েছেন, একসাথে ৫০ বছর পার করাটা কম কথা নয়। আমরা এই দিনটাকে স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছিলাম। তাই এই আয়োজন। ৫০ বছর পরে সহধর্মিণী অনিমা দেবীর সাথে ফের নতুন করে সাত পাকে বাঁধা পড়ার পর অবসর প্রাপ্ত পুলিশ কর্মী প্রভাস চন্দ্র দত্ত খুবই খুশি। চাজুক হেসে তাঁর মন্তব্য, সুখে দুঃখে এক সাথে থেকে আমরা ৫০ বছর পার করলাম। আর এই দিনে ছেলে, মেয়ে, জামাই, নাতি, নাতনিদের নিয়ে দিনটা খুব সুন্দর ভাবে কাটলো। আর কনের বেশে সত্তরোর্ধ অনিমাদেবীকে দেখা গেল মিটিমিটি হাসছেন। তবে তাঁর সেই দিনটির কথাই স্মৃতিপটে ভেসে উঠছিল? নাতি-নাতনিদের সঙ্গে নিয়ে তিনি কিন্তু সুন্দর পোজ দিলেন সেলফিতে।