রজত দে-র রহস্যমৃত্যুতে একের পর এক নয়া তথ্য

0
139

নিউটাউনে আইনজীবী রজত দের মৃত্যুর ঘটনায় উঠে আসছে একের পর এক নতুন তথ্য। সম্পর্ক বড়ই জটিল, আর তার চেয়েও জটিল সম্পর্কের জাল। নিউটাউনের আইনজীবী রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় চতুর্দিকে ছড়িয়ে সেই সম্ভাবনাই। প্রায় প্রতিদিন উঠে আসছে নতুন নতুন ব্যক্তির প্রসঙ্গ। সূত্রের খবর, শুধু অভিযুক্ত অনিন্দিতা পাল দে-র যে এটি তৃতীয় সম্পর্ক তা নয়, অনিন্দিতার মায়েরও এটা দ্বিতীয় বিয়ে। অর্থাৎ অলক পাল অনিন্দিতার সৎবাবা। এমনকী, অনিন্দিতার পুত্র ঋষাণ রজত দে-র সন্তান নয় বলেই সূত্রের খবর। দ্বিতীয়বার যার সঙ্গে অনিন্দিতা সম্পর্কে আবদ্ধ হন ঋষাণ তাঁরই সন্তান। কিন্তু কে সেই ব্যক্তি? তিনি অনিন্দিতার কলেজ জীবনের বন্ধু মজহার আহমেদ খান। তিনিও পেশায় আইনজীবী। নিউটাউনের যে আবাসনে অনিন্দিতা থাকতেন, সেই আবাসনের কেয়ারটেকার ছিলেন জয়দেব মণ্ডল। কয়েকমাস আগেই সেই কাজ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। রজত আর অনিন্দিতা প্রসঙ্গে তাঁর মত, দুজনের মধ্যে বনিবনা হত না। মাসের মধ্যে ২০দিনই বাড়িতে থাকতেন না আইনজীবীর স্ত্রী।

তদন্তকারীরা মনে করছেন, তিনি যে গ্রেফতার হবেন তা একপ্রকার নিশ্চিত ছিলেন অনিন্দিতা। আগের দিনও মজহার আহমেদ খানের সঙ্গে হোয়াটস অ্যাপে এই বিষয় নিয়ে কথাও হয় তাঁর। মজহারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন অনিন্দিতা। তদন্তকারীদের অনুমান, খুনের সময় ফ্ল্যাটে যে তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিত ছিল বলে মনে করা হচ্ছে, তিনি হয়ত এই মজহার খান।

ঘটনায় আরও বড় প্রশ্নের মুখে অনিন্দিতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। একের পর এক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া কি তবে স্বভাবসিদ্ধই ছিল? সুপুরুষের সঙ্গ পেলেই তাঁদের কাছে টানার চেষ্টা করতেন অনিন্দিতা? একটি সম্পর্কে জড়ানোর পরে দ্রুত সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে নতুন সম্পর্কে জড়ানোই কি ছিল তাঁর লক্ষ্য? যার জেরে শেষে খুন হতে হল রজতকে? এখন এই প্রশ্নই ভাবাচ্ছেন তদন্তকারীদের। কারণ, প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের সময়ও শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন অনিন্দিতা। রজতের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

এর পাশাপাশি, মৃত আইনজীবী রজত দের শরীরে একাধিক ক্ষতচিহ্ন ভাবাচ্ছে তদন্তকারী আধিকারিকদের। রজতের গলায় যে ০.৫ সেন্টিমিটার দাগ ছিল সেটি স্ত্রী অনিন্দিতা দে পালের মোবাইল চার্জারের তারের দাগ এবিষয়ে নিশ্চিত তদন্তকারীরা। অনিন্দিতা নিজেও তাই দাবি করেছিলেন। তবে, তদন্তকারীদের ভাবাচ্ছে মৃত আইনজীবীর শরীরে একাধিক ক্ষতচিহ্ন। পুলিস সূত্র অনুযায়ী, রজতের দু হাতের কনুই, ডান উরু এবং ঘাড়ে গভীর ক্ষত পাওয়া গিয়েছে। সেই দেখে তদন্তকারীদের অনুমান, মৃত্যুর আগে রজতের সঙ্গে কারও প্রবল ধস্তাধস্তি হয়। কিন্তু কে তিনি? তিনি কি স্ত্রী অনিন্দিতা? কিন্তু ছ ফুট লম্বা, বলিষ্ঠ চেহারার রজতের সঙ্গে অনিন্দিতার হাতাহাতি হলে, তাঁরও আহত হওয়া স্বাভাববিক। কিন্তু এক্ষেত্রে সেরকম কিছুই দেখতে পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতিতে খুনের সময় ঘটনাস্থলে তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতির তত্ত্ব ক্রমশই জোরাল হচ্ছে।