নোবেলের কত কথা

0
48

মদের বারে গিয়ে বান্ধবীদের মন জয় করতে চুরি করা কিংবা নাজিদের হাত থেকে বাঁচাতে গলিয়ে ফেলা–নোবেল পদক কতরকমভাবে যে হারিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। ১০০ বছরের ইতিহাসে এর ভুরি ভুরি নমুনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে।
হিটলারবাহিনী যখন ১৯৪০ সালে ডেনমার্ক আক্রমণ করেছিল, তখন নিলস বোর ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীরা ১৯১৪ আর ১৯২৫ সালে পাওয়া নোবেল মেডেলগুলি নিয়ে রীতিমতো চিন্তিত হয়ে পড়েন। ম্যাক্স ফন লুয়ে আর জেমস ফ্র্যাঙ্ক পদকদুটি জিতেছিলেন। হিটলারের জমানায় সোনা বাইরে পাচার নিষিদ্ধ। নোবেল পদকে আবার প্রাপকদের নামও খোদাই করা। কোথায় সেগুলি লুকোবেন ভেবেই পাচ্ছিলেন না তাঁরা। মাটির নীচে পুঁতে রাখলেও তা বের করতে পারে যে কেউ।
শেষে ২৩ কারাটের সোনার চাকতি দুটি অ্যাকুয়া রেজিয়া অ্যাসিড দিয়ে গলিয়ে ফেলা হয়। ল্যাবরেটরির তাকে রাখা কমলা রঙের তরল পদার্থটি নাজিদের নজরে পড়েনি। বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে ডি হেভসে ১৯৪৩ সালে নোবেল পুরস্কার পান। তিনি ১৯৫০ সালে ওই দুই বিজ্ঞানীর গলানো সোনা নোবেল কমিটিকে দিয়ে অনুরোধ করে ফের মেডেল বানিয়ে দিতে।
এবে একেবারে হাল চেড়ে দিয়ে নরওয়ের লেখক নুট হামসুন তাঁর সাহিত্যের নোবেল পদক তুলে দিয়েছিলেন হিটলারের প্রচারমন্ত্রী যোশেফ গোয়েবলসের হাতে। ১০৪৩ সালে প্রবল নাজি সমর্থক হামসুন বিশ্বাসঘাতকতায় দোষী প্রমাণিত হয়ে বাকি জীবন মানসিক হাসপাতালে কাটিয়েছিলেন। তাঁর মেডেলের কী হল, তা আর জানা যায়নি।
১৯২৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন ফ্রান্সের আরিস্তিদ ব্রিয়ান্দ। তাঁর নোবেল পদক ২০০৮ সালে নিলামে মাত্র ৮ হাজার ডলারে বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। জলের দরে সেটি কিনেছিল ফ্রান্সের ইকোমুজি যাদুঘর। ২০১৫ সালে সেটি চুরি হয়ে যাওয়ার পরে আর তার হদিশ মেলেনি। ১৯৬২ সালে মার্কিন বিজ্ঞানী জেমস ওয়ার্সন তাঁর মেডেল বেছেছিলেন করছাড়া ৪১ লাখ ডলারে। রাশিয়ান ধনকুবের আলিসার উসামভ অবশ্য পদকটি কেনার পর সেটি ফেরত দিয়েছিলেন ওয়ার্সনকেই।
২০১৭ সালে চোরেরা ২০১৪ সালে ভারতের কৈলাশ সত্যার্থীর পাওয়া নোবেল পদক নিয়ে পালিয়েছিল। তবে তা ছিল আসল মেডেলের প্রতিরূপ। আসলটি রয়েছে যাদুঘরে। চোরাই মেডেল অবশ্য পাওয়া গিয়েছিল। ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ২০০৪ সালে শান্তিনিকেতন থেকে সেটি উধাও হয়ে যায়। আর পাওয়া যায়নি গুরুদেবের মেডেল।
২০০৯ সালে ইরানের মানবাধিকার কর্মী শিরিন ইবাদির বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তির সঙ্গে তাঁর নোবেল পদকও নিয়ে গিয়েছিল ইরানের আয়কর কর্তৃপক্ষ। কর ফাঁকির অভিযোগে বাজেয়াপ্ত হয়ে গিয়েছিল সেটি। পরে সেটি ইবাদিকে ফেরত দেওয়া হয়েছিল।
ডক্টর্স উইদাউট বর্ডার্স ১৯৯৯ সালে নোবেল পেয়েছিল। সেটি অসলোর হোটেল থেকে হারিয়ে যায়। পরদিন যথাস্থানে ফিরে আসে সেটি। পরে জানা যায়, সেটি কেউ নিয়ে গিয়েছিল অসলোর বারে মেয়েদের মন জয় করতে।