জিয়াগঞ্জের শিক্ষক পরিবার খুনে বাড়ছে রহস্য

0
381

মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে একই পরিবারের তিন সদস্য খুনের ঘটনায় ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। নিহত শিক্ষক বন্ধুপ্রকাশ পালের বিরুদ্ধেও উঠে এসেছে মোটা অঙ্কের ধারের টাকা না মেটানোর অভিযোগ। আবার ওই দম্পতির পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েও দানা বেঁধেছে রহস্য। তবে তদন্তকারী আধিকারিকরা নিশ্চিত, খুনী ওই দম্পতির অতি পরিচিত কেউ। দশমীর সকালে জিয়াগঞ্জের লেবুবাগানে একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় একই পরিবারের তিনজনের মৃতদেহ। ঘরের মধ্যে দেখা যায়, তিনজনকেই নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। নিহত বন্ধুপ্রকাশ পাল ছিলেন পেশায় প্রাথমিক শিক্ষক। তাঁকে, তাঁর সন্তানসম্ভবা স্ত্রী বিউটিকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় তাঁদের একমাত্র শিশুপুত্রকেও। সেই খুনের অভিযোগে এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।

বৃহস্পতিবার জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার তন্ময় সরকার জানিয়েছেন, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে, গোটা ঘটনা যে পূর্ব পরিকল্পিত এবং খুব পরিচিত কেউ। খুনীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় বুধবারই ক্ষোভ দেখা গিয়েছিল বন্ধুপ্রকাশের আত্মীয়-পরিজন, পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে। বৃহস্পতিবারও মুর্শিদাবাদ জেলার একটি শিক্ষক সংগঠন মিছিল করেন পুলিশি নিস্কৃয়তা নিয়ে। কিন্তু তারই মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। বিজেপি নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয় ও রাহুল সিনহার দাবি, নিহত শিক্ষক বন্ধুপ্রকাশ সক্রিয় আরএসএস কর্মী। কিন্তু অতিরিক্ত পুলিস সুপার এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। এই পরিস্থিতিতে খুনের কারণ ও খুনী কে বা কারা, তা নিয়ে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সব প্রকাশ্যে আনতে নারাজ পুলিসও।