মামাল্লাপুরমে খোলামেলা পরিবেশে মুখোমুখি জিনপিং-মোদি

0
564

৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর ভারত-পাক চাপানউতোরের মধ্যেই ভারতে এসে পৌঁছলেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। চেন্নাই বিমানবন্দরে তাঁকে পুস্পস্তবক দিয়ে অভ্যর্থনা জানান তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল বানওয়ারিলাল পুরোহিত, মুখ্যমন্ত্রী পালানিস্বামী, উপমুখ্যমন্ত্রী পনিরসেলভম। এরপরই ‘অতুল্য ভারতের’ নমুনা প্রদর্শন করা হয় জিনপিংয়ের সামনে। জিনপিং চেন্নাইয়ে পা রাখার আগেই অবশ্য সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। জিনপিংকে এ দিন মামাল্লাপুরমে খোলামেলা পরিবেশে বিভিন্ন হেরিটেজ সাইট ঘুরে দেখান নমো। এদিন মোদির পরনে ছিল দক্ষিণী স্টাইলে ধুতি। মোদি-জিনপিং-এর বৈঠকের দিকে তাকিয়ে কূটনৈতিক মহল। শনিবার সকালে দুই নেতা তাদের ঘরোয়া বৈঠক সারবেন, তারপর দুই দেশের মধ্যে প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজ ও নৈশভোজের আয়োজন করবেন। যদিও জিনপিংয়ের এবারের ভারত সফরকে ঘরোয়া হিসাবে তুলে ধরা হচ্ছে, কিন্তু দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনায় যে নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় উঠে আসবে তা নিশ্চিত। এই বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য হল দুই দেশের মধ্যে উচ্চস্তরের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে গড়ে তোলা এবং মূল বিষয়গুলি নিয়ে নিজেদের মধ্যে মত বিনিময় করা। মোদি-জিনপিং-এর বৈঠকের অবশ্য কোনও নির্দিষ্ট এজেন্ডা নেই। কোনও মউ বা চুক্তি স্বাক্ষরেরও কথা নেই।

তবে সূত্র বলছে, সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগানো, সন্ত্রাস শিবিরে প্রশিক্ষণ ও সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলিকে যে কোনও রকম সহায়তা দেওয়া, আলোচনার অন্যতম বিষয় হবে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং সীমান্ত সম্পর্কিত সমস্যা নিয়েও কথা হবে। উভয় পক্ষই ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে একটি সমাধানে আসার চেষ্টা করতে পারে। তবে কূটনৈতিক মহলের একাংশের ধারনা, মোদি-জিনপিং বৈঠকে ৩৭০ ধারা বিলোপের প্রসঙ্গ উঠবে না। কারণ, চিনের তরফে কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করা হলে নয়াদিল্লির তরফে কড়া জবাব মেলারই সম্ভাবনা। উল্টে ভারতের তরফে পাকিস্তানকে সন্ত্রাস নিয়ে কোণঠাসা করে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। চিন নিজেদের আর্থিক প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে এবারের সফরে বিরুপ কিছু করবে না বলেই অনেকের মত। আমেরিকার বাজার থেকে যে আর্থিক ঘাটতি হচ্ছে, তা পূরণে ভারতের বাজার চিনের প্রয়োজন বলেই কূটনৈতিক মহলের ধারণা। কিন্তু চিন বরাবরই নিজেদের সুবিধমতো ভারতের প্রতি আচরণ পরিবর্তন করে। সেক্ষেত্রে অনেক মেপে বৈঠকে ভারতকে পা ফেলতে হবে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞরা।