মরুরাজ্যের ‘মনসাগরে’ কমছে পরিযায়ী পাখি

0
78

শীত পড়তেই অসংখ্য পরিযায়ী পাখি দলে দলে ভিড় করে এদেশে। বিদেশ থেকে উড়ে আসা পাখিরা এই দেশে আসে একটু হাড় কাঁপানো শীতের হাত থেকে বাঁচার আশায়। পাশাপাশি আশ্রয় ও খাদ্যের সন্ধানেও।
ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি প্রবল ঠান্ডায় শীতের চার-পাঁচ মাস থাকে বরফের তলায়। সেই সময় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে নেমে যায় সেখানে পাখিদের থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। দেখা দেয় খাদ্যসঙ্কট। বাসা বাঁধারও জায়গা থাকে না। তাই পরিযায়ী পাখির দল হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে চলে আসে ভারত সহ উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশে। কিন্তু দিনে দিনে কমছে পরিযায়ী পাখিদের সংখ্যা। এর কারণ হিসেবে উঠে আসছে খাবার, বাসস্থান ও চোরাশিকারিদের দৌরাত্ম্য।

ছবি: মন সাগর লেকে পরিযায়ী পাখির দল…

এরকমই এক জায়গা রাজস্থানের মনসাগর লেক। শীত আসতেই এখানে পাখির কলতানে ভরে যায়। এমনই চিত্র দেখা মিলল এবারও। এখানে ভিড় করেছে প্রায় ৮৫ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি। এর মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু লুপ্তপ্রায় পাখি। ফলে জমজমাট মরুরাজ্যের মনসাগর লেক। পরিযায়ীরা এক ডুবে লেকের ছোটো মাছ, গুগলি, বা পোকা খেয়ে লেকের জলে ভেসে বেড়াচ্ছে খোস মেজাজে। আর এমনি মনোরম দৃশ্য দেখতে ও ক্যামেরাবন্দীি করতে ভিড় বাড়িয়েছেন বহু পরিবেশপ্রেমী থেকে পর্যটক।

ছবি: মন সাগর লেকে পরিযায়ী পাখির দল…

কিন্তু পরিবেশবিদদের চিন্তার কারণ হল পরিযায়ী পাখিদের কমে যাওয়া। বিগত কয়েক বছর ধরেই তাঁরা লক্ষ্য করছেন মনসাগরে পাখির সংখ্যা অনেকটাই কমেছে। এরজন্য তাঁরা খাদ্যের অভাব ও চোরা শিকারকেই দায়ী করছেন। পাশাপাশি জলের দূষণের জেরে তাঁদের স্বাভাবিক প্রজননেরও সমস্যাও একটা কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন পশুপ্রেমীরা।
তাই এবার আরও বেশি সতর্ক রাজস্থান প্রশাসন। চোরা শিকারি ঠেকাতে চলছে কড়া নজরদারি। পাশাপাশি এবার লুপ্তপ্রায় পরিযায়ী পাখিদের সংখ্যা বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে রাজস্থান সরকার। তাই সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে পাখির প্রজননের চিন্তাভাবনা চলছে। যার মধ্যমে কিছুটা হলেও লুপ্তপ্রায় পাখির সংখ্যা বাড়বে আশাবাদী পাখি বিশেষঞ্জরা। ক্রমাগত বেড়ে চলা দূষণে পাখিদের খাদ্য সংকট দেখা দিচ্ছে। বুজিয়ে ফেলা হচ্ছে জলাশয়, ফলে বাড়ছে দূষণও। তাই আগামিতে সচেতন না হলে হয়তো হারিয়ে যাবে এই সমস্ত পরিযায়ী পাখি।

ছবি: মন সাগর লেক, জয়পুর, রাজস্থান