জতুগৃহ বাগরি মার্কেটে বিধ্বংসী আগুন

0
82

১২ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এল না বাগরি মার্কেটের আগুন। উল্টো নতুন করে আগুন ছড়াল বাগরি মার্কেটের আরেকটি ঘরে। যখন আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ভাবা হচ্ছিল, তখন ফের বিপত্তি। বিল্ডিংয়ের তিন তলার আরও একটি ঘরে নতুন করে আগুন ছড়ায়। সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণেই আবার নতুন করে আগুন লাগে বলে ধারনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। এদিকে, ঠিক যেখানটায় নতুন করে আগুন দেখা গেছে, সেখানটায় পাইপ দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমান জল ঢালা সম্ভব হচ্ছেনা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চালাচ্ছে আগুন নেভানোর কাজ করছে দমকলের ৩৫টি ইঞ্জিন। তবে প্রাণহানির কোনও খবর পাওয়া যায়নি। রাত আড়াইটা নাগাদ বাগরি মার্কেটের সি ব্লকে আগুন লাগে। তারপরে ছড়িয়ে পড়ে এ, বি ব্লকেও। উল্টোদিকের মেহতাব বিল্ডিংয়েও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বিল্ডিংয়ের আবাসিকদের তৎপরতায় সেটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। কিন্তু বাগরি মার্কেটের অংশের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। আগুন লাগার কারণ সঠিক ভাবে জানতে না পারলেও দমকল এবং পুলিশ প্রাথমিক ভাবে মনে করছে, শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ড। মার্কেটের ছ’তলা পর্যন্ত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার খবর পেয়ই ঘটনাস্থলে পৌঁছান মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়, ডিজি ফায়ার এবং পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার। সূত্রের খবর, তীব্র ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন এক কর্মী। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিল্ডিংয়ের ভিতরে অনেক দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল। ফলে দ্রুত আগুন বিধ্বংসী আকার নেয়। আগুন নেভানোর ক্ষেত্রে ল্যাডার সমস্যায় পড়তে হচ্ছে দমকলকর্মীদের। এলাকায় ঘিঞ্জি হওয়ায় হাইড্রোলিক ল্যাডার থাকলেও তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। তারের জজ্ঞালে ল্যাডার খোলাই সম্ভব হচ্ছে না।  সাধারণ মই দিয়েই কাজ চালাতে হচ্ছে।  আগুন নিয়ন্ত্রণের আনার সময়ও একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায়। বিল্ডিংটির পাঁচ-ছ’তলায় অনেকগুলি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের মেশিন রয়েছে। সেগুলিও বিস্ফোরিত হতে থাকে। সেই সঙ্গে যোগ হয় সিলিন্ডার বিস্ফোরণ। সবমিলিয়ে এখনও হিমশিম খেত হচ্ছে দমকল কর্মীদের। এদিকে, ইউরোপ সফরে যাওয়ার আগে ঘটনার বিস্তারিত খবর নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। “আগুন নেভানোর কাজ চলছে। তবে শুনলাম কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ও রাত থেকেই রয়েছেন ঘটনাস্থলে। এখনও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। এমন ঘটনা একেবারেই কাম্য নয়।” বাড়িটিতেই প্রায় হাজার খানেক দোকান ছিল। আগুনের ফলে পূজোর মুখে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে দাবি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের।