এনআরএসে বহিরাগত তত্ত্বে অনঢ় মুখ্যমন্ত্রী

0
730

রাজ্যজুড়ে চলা চিকিৎসক আন্দোলনে বহিরাগত তত্ত্বে এখনও অনঢ় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি শুক্রবারও দাবি করেন যে তাঁর হাতে প্রমান রয়েছে এনআরএস হাসপাতালে আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারদের মধ্যে বহিরাগত মানুষও রয়েছেন। পাশাপাশি সেই আন্দোলনের পিছনে কিছু রাজনৈতিক দলের মদতের অভিযোগও তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত, এনআরএস হাসপাতালে এক চিকিৎসককে নিগ্রহ করার ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন জুনিয়র ডাক্তাররা। বৃহস্পতিবার এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে সেই আন্দোলন ৪ ঘন্টার মধ্যে তুলে নেওয়ার সময়সীমা দিয়েছিলেন তিনি এবং দাবি করেছিলেন বহিরাগতরাই আন্দোলনের নামে অচলাবস্তা সৃষ্টি করছে। শুক্রবার মুকুল রায়-অর্জুন সিংয়ের গড় কাঁচড়াপাড়ায় কর্মীসভা করলেন তৃমমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে গিয়ে তিনি কারোর নাম না নিয়ে তোপ দাগেন এই এলাকাতেই কয়েকজন গদ্দারের বসবাস।

পাশাপাশি তিনি এও বলেন, বিজেপি চাইছে বাংলাকে ভাগ করতে, বাংলা ভাগ হোক আমি চাইনা। বাংলায় থাকতে হলে বাংলায় কথা বলতে হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কাঁচড়াপাড়ার কর্মীসভা থেকে। তাঁর কথায়, বাংলায় থেকে বাঙালিদের ভয় দেখালে বরদাস্ত করব না। এছাড়া গদ্দার প্রসঙ্গে এদিন কাঁচড়াপাড়াতে দাঁড়িয়েই তৃণমূলনেত্রী বলেন, কিছু গদ্দারের জন্যই এই অবস্থা দলের। তাঁর ব্যাখ্যা, ‘অনেকেই আমাকে সাবধান করেছিল, তাঁদের বিশ্বাস করিনি, উল্টে সেই গদ্দারদেরকেই বিশ্বাস করেছিলাম। এখন দেখছি আমার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল।’ মুকুল-শুভ্রাংশুর নাম না নিয়েই তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কাঁচড়াপাড়া ও কল্যাণী এক্সপ্রেস ওয়ের ধারে সব জমি নিয়ে তদন্ত করা হবে। তবে ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে দলীয় সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই এবার থেকে দলীয় নেতাদের প্রতি ব্লকে গিয়ে সংগঠন বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, পাড়ায় পাড়ায় আড্ডা মারা বখাটে ছেলেমেয়েদের দলে নিতে। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, গরিব বেকার ছেলেমেয়েদের বায়োডাটা সংগ্রহ করে তাঁর কাছে পাঠাতে। দলের হয়ে ভালো কাজ করলে তাঁদের চাকরির ব্যবস্থাও করবেন বলে এদিন আশ্বাস দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।