পিসিমা, পকোড়া খামু

0
99

নীলার্ণব চক্রবর্তী
না, দেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এই লেখায় ব্যঙ্গ করার কোনও ইচ্ছা আমার নেই। বিভাগীয় সম্পাদক চোখ কটমটিয়ে বারণ করে দিয়েছেন। তা ছাড়া, আমার ও আমার সম্পাদক– দুজনেরই ঘাড়ের উপর একটাই মাথা! আপাতত, শুনুন অন্য একটা কথা। কী সেটা? সেটা হল, পকোড়া নামে একটি রাজনৈতিক দল খোলা হয়েছে এ দেশে। চিহ্ন স্বাভাবিক ভাবেই পকোড়া। আগামী ২০১৯-এর নির্বাচনে তারা ভারত জোড়া প্রার্থী দিচ্ছে। তা, প্রার্থীর কোয়ালিফিকেশন কী হবে? পকোড়া পার্টি যখন, তখন জিভে জল আনা কোনও পরীক্ষাই স্বাভাবিক! টিভির চ্যানেলে চ্যানেলে রিয়েলিটি শো-গুলিতে যেমন করে বাঁশি বাজিয়ে ল্যাটা মাছ ধরানো বা যেমন করে পিঠে গেলানো কমপিটিশন হয়, এখানেও তেমন একটা তরকিব নিলেন পকোড়া পার্টির নেতারা। ফেসবুকে ঘোষণা করে দেওয়া হল, অমুক অমুক স্থানে আসুন, পকোড়া খান, এক মিনিট টাইম। পকোড়া খেয়ে প্রতিদিন যে এক নম্বরে সে-ই প্রার্থী। যতদিন পর্যন্ত উদ্যোক্তাদের মতে প্রার্থী বাছা শেষ হচ্ছে না, ততদিনই চলবে এটা। অ্যাডের হেডিং দেওয়া: পকোড়া খাও, জিতে প্রার্থী হয়ে যাও। তা, ফেসবুকে এই অ্যাডের পর ভাজপা হেবি চটিতং, সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা গেরুয়া শিবিরের ডিজিটাল সেলের। সিপিএম, তৃণমূল, সপা, বসপা, টিডিপি ইত্যাদি দলগুলোও আশঙ্কিত। কারণ, পকোড়া পার্টির ঠেলায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে না তো! অনেকের স্বপ্নে তো শুধু পকোড়ার ভয় ফুল ভল্যুমে! কেউ কেউ এমন স্বপ্নও দেখলেন: পকোড়ার মধ্যে তাদের পুর করে পুরে বিশাল কড়াইতে ভাজা হচ্ছে। চার মূর্তি ফিল্মটার ‘ঘ্যাচাং ফু’ গানটা তাদের ব্রেনে। সুপ্রিয়া চৌধুরীর প্রয়াণের দিনই প্রয়াত শম্ভু ভটচাযের সেই হুঁশ ওড়ানো– গুল গুল্লা গুলগুল গুল্লা… ভিডিওটাও চলছে স্বপ্নের ভিতর। চমকের দমকে ঘাম দিয়ে ঘুম ভাঙছে! তবে সব বাধা টপকে, সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় যথা সময়ে দামামা বাজিয়ে এই পকোড়া প্রার্থী প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেল। এই বাঙলায় প্রতিযোগিতার জন্য একশোটি স্থান নির্ধারিত। বাংলা জয় না করলেও তো রাজনীতির গাড়ি চলবে না। বাংলা যা আজকে ভাবে, তামাম ভারত ভাবে পরদিন! বাঙালি তো এই খবর পেয়ে আগে থেকেই বিপুল উত্তেজিত। মাসিমা, মালপোয়া খামু, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক সময়কার তুমুল বিখ্যাত লাইন নবরূপে ফিরেছে: পিসিমা, পকোড়া খামু! সক্কলে লাফিয়ে লাফিয়ে হাজির প্রতিযোগিতা স্থলেও। লাইন হচ্ছে বিশাল। বাঙালি যুবা, মাঝারি থেকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আসা অশিতিপর, ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতে সকলেই লাইন লাগিয়েছেন । নোটবন্দিকে যা ছাপিয়েছে। পকোড়াস্রোত হুহু করে উড়ে যাচ্ছে। পকোড়ার রাজা চিকেন পকোড়াই খাওয়ানো হচ্ছে, উদ্যোক্তারা কার্পণ্য করছেন না। টেনিদার স্টাইলে হামলে পড়ে গবগবিয়ে পকোড়ার পাহাড় ফিনিস! একজন খাচ্ছে যখন, অপেক্ষারত অন্যজন লোভীর মতো তাকে দেখছে, ঝরে পড়ছে লালও। তখন যে খাচ্ছে তার মনে: আমার খাওয়া দেখলে তোদের হিংসে হয় নারে! এই টেনিদা-বাণি। কিন্তু তীব্র জলযোগের পর প্রবল গোলযোগ এসে হাজির। পেটে তীব্র টনটনানি শুরু বঙ্গজনের। মাথায় ভনভন। ঝনঝনও। বাড়ি যেতে পায়ে কম্পন, ভূমিকম্প। স্ট্রেচারে করে অনেককে হাসপাতালে উগরানো। হায় হায়, ফেসবুকের ওই অ্যাডের ফুটে খুদে অক্ষরে লেখা ছিল, পকোড়া প্রার্থী প্রতিযোগিতায় খেলেই হবে না, খেয়ে পেট খারাপ হলেই, টাটা বাইবাই– মানে, ডিসকোয়ালিফাই। তা, বাংলায় দেখা গেল, সবচেয়ে বেশি পকোড়া খেয়েছে এখানকার খাদকরা, আর সবচেয়ে বেশি ডিসকোয়ালিফায়েডও– হায় পকোড়া, হায় হায়– হ্যাঁ এখানেই।
…..
এটি একটি কাল্পনিক কাহিনি।