রথযাত্রা লোকারণ্য মহা ধুমধাম

0
161

শ্রীজগন্নাথ সকলের দেবতা। তাই জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকেই দেখা দিতে প্রতিবছর তিনি মন্দির থেকে বেড়িয়ে এসে রথে চড়েন। মন্দিরে অহিন্দুদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হলেও রথযাত্রা দেখতে কারও বাধা নেই। তাই আসমুদ্র হিমাচলের মানুষ যুগ যুগ ধরে ছুটে আসেন পুরীর রথের রশিতে টান দিতে। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই রথে চড়বেন জগন্নাথ দেব। সঙ্গে বড়ভাই বলরাম ও বোন সুভদ্রা। এবার ঘূর্ণিঝড় ফনির দাপটে অনেকটাই লন্ডভন্ড পুরী। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ওডিশা সরকার মেরামত করেছে পুরীকে। ফলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কাতারে কাতারে ভক্ত জড়ো হতে শুরু করেছেন পুরীর রাজপথে। নিয়মমাফিক পুরীর রাজা রথের রশিতে টান দেবেন প্রথম, তারপর অসংখ্য মানুষ শ্রী জগন্নাথের রথ টেনে নিয়ে যাবেন গুন্ডিচা মন্দিরে। তবে এবার ফনির সৌজন্যে পুরীর ভির প্রায় অর্ধেক।


পুরীর মতোই প্রাচীনত্ব ও ঐতিহ্যে কম যায় না হুগলির মাহেশের রথ। ৬২৩ বছরের পুরোনো মাহেশের রথ। ৫০ ফুট উচু চারতলা এই রথের ১২টি চাকা। তবে প্রাচীন এই রথ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নষ্ট হয়ে গেলে মার্টিন বার্ন কোম্পানিকে দিয়ে লোহার এই রথ তৈরি করানো হয়েছে। কথিত আছে, পুরীর রথের চাকা না গড়ানো পর্যন্ত মাহেশের রথ নড়ে না। আজও একটি নীলকন্ঠ পাখি মাহেশের রথের চূড়ায় রাখা হয় এবং সেটি উড়ে গেলেই রশিতে টান পড়ে। এবারই প্রথম মাহেশের রথের রশিতে টান দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।