রাজ্যে কাজের অভাব, বিরোধীদের তোপের মুখে সরকার

0
36

কাশ্মীরে কাজে গিয়ে জঙ্গি আক্রমণে মুর্শিদাবাদের ৫ শ্রমিকের মৃত্যুতে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। ফের প্রশ্ন উঠেছে রাজ্যে কাজের অভাব নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য তাতে আমল দিতে নারাজ। তাঁর মুখে ঘটনার তদন্তের দাবি। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর, রাজস্থানে শ্রমিকের কাজে গিয়ে খুন হয়েছিলেন মালদার বাসিন্দা আফরাজুল খান। সেই মর্মান্তিক খুনের ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছিল, বাংলা থেকে শ্রমিকদের কেন যেতে হচ্ছে রাজ্যের বাইরে? এবার কাশ্মীরের কুলগামে জঙ্গি আক্রমণে মুর্শিদাবাদের পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যুতে সেই প্রশ্নই আবার উঠে এসেছে। এ রাজ্যে কাজের অভাবকে কাঠগড়ায় তুলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলগুলির নেতৃবৃন্দ। প্রদেশ কংগ্রেসের তরফ থেকে এই প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। এক প্রেস বিবৃতিতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র প্রশ্ন তোলেন, রাজ্যের শ্রমিককে কেন কাজের খোঁজে অন্য রাজ্যে যেতে হবে ? কেন বাংলায় কাজ থাকবে না ? একই কথা শোনা গিয়েছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের গলাতেও।

কিন্তু বাংলার শ্রমিকদের এই মর্মান্তিক পরিণতির জন্য কেন্দ্রের সরকারের উপরই দায় চাপিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তাঁর সাফ কথা, বাংলার মানুষ বাংলাতেই কাজ করবেন এটা ঠিক না। ভারতের যেকোনও জায়গায় গিয়ে মানুষ কাজ করতে পারেন। কিন্তু কাশ্মীর নিয়ে বিজেপি বড় বড় কথা বলে, কিন্তু সেখানে সাধারণ মানুষের কোনও নিরাপত্তা নেই সেটা প্রমানিত হল। অপরদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কুলগামের ঘটনাকে পূর্ব-পরিকল্পিত বলেও মন্তব্য করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে অবশ্য একই সুরে কটাক্ষ করেছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের কড়া তোপের মুখেও মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। স্বভাবতই কুলগামের ঘটনায় উত্তপ্ত রাজ্য-রাজনীতি। দিলীপ ঘোষ এদিন দাবি করেন, রাজ্যে সরকার কোনও কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেনি বাংলায়। তাই বাধ্য হয়েই রাজ্যের শ্রমিকরা পাকিস্থান সীমান্তে কাজের খোঁজে যাচ্ছেন। উনি আগে রাজ্যের মানুষের জন্য কাজের ব্যবস্থা করুক, তারপর বিজেপিকে দোষারোপ করুক। এই দোষারোপের দড়ি টানাটানিতে জঙ্গি-হামলায় মৃতদের পরিবারের কাছে দূরস্ত স্বজন হারানোর বিচার। ওঁরা কিন্তু জীবন দিলেন দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে গিয়েই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।