বিজেপির টোপ আটকাতে মরিয়া কংগ্রেস-জেডি (এস)

0
377

খনি মাফিয়া রেড্ডিভাইদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত জনতা দল (সেকুলার)-এর রাজা সদ্য জেতা বিধায়ক বেঙ্কটাপ্পা ও বেঙ্কট রাও নন্দগৌড়া বুধবার সকালে তাঁদের দলের বৈঠকে হাজির ছিলেন না। তা নিয়েয় সরগরম কর্নাটকের রাজনীতি। কংগ্রেসেরও তিন নবনির্বাচিত বিধায়ককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে সোনা যাচ্ছিল।। বুধবার সকালে কংগ্রেসের বৈঠক শুরু হতে দেরি হয়। দেখা যায়, তিনজন নেই। ওই তিনজন রাজশেখর পাতিল, নরেন্দ্র ও আনন্দ সিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। কংগ্রেসের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার পরে বলেছেন, সবাই সঙ্গে আছেন। কেউ যাননি। দলের সদস্যদের সরিয়ে নিরাপদে রাখার জন্য কংগ্রেস ইতিমধ্যেই বেঙ্গালুরুর একটি রিসর্ট বুক করেছে বলে জানা গিয়েছে।

কর্নাটকে ত্রিশঙ্কু ফলের পর বিজেপি টাকা দিয়ে কংগ্রেস আর জেডি (এস) এমএলএদের কিনতে নেমেছে এমন আশঙ্কা খোদ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার। কংগ্রেসের সদ্য জেতা বিধায়ক অমরেগৌড়া লিঙ্গনাগৌড়া ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, বিজেপি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে মন্ত্রিত্বের টোপ দিয়েছে। তাই কংগ্রেস-জেডি (এস) শিবরে শুরু হয়েছে সংখ্যা অটুট রাখার জোর চেষ্টা। টাকা বা মন্ত্রিত্বের টোপের হাত থেকে নিজেদের বিধায়কদের বাঁচাতে দূরের কোনও নিরাপদ রিসর্টে নিয়ে আটকে রাখার ট্র্যাডিশন এদেশের রাজনীতিতে নতুন নয়। কিছুদিন আগে রাজ্যসভার নির্বাচনের সময় গুজরাটের কংগ্রেসের বিধায়কদের রাখা হয়েছিল বেঙ্গালুরুর এক রিসর্টো। তাই এখানেও ভাবা হচ্ছে রিসর্টের কথা। ঝোপ বুঝে কোপ মারতে আসের নেমেছে কেরলের পর্যটন দফতর। তারা টুইট করে বলেছে, কর্নাটকের ভোটের হুজ্জুতির পর আমরা সব এমএলএদের আমাদের নিরাপদ ও সুন্দর রিসর্টে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

জেডি (এস)-এর পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, বিজেপি প্রলোভন দেখাচ্ছে। কংগ্রেসের গুলাম নবি আজাদ বলেছেন, রাজ্যপালকে ভুলে যেতে হবে তিনি আগে কী ছিলেন। সংবিধানকে রক্ষা করা তাঁর দায়িত্ব। বৃহত্তম দল পেয়েছে ১০৪ আর কংগ্রেস-জেডি (এস)-এর হাতে ১১৭। রাজ্যপাল যেন পক্ষপাত না দেখান। বিজেপির পাল্টা যুক্তি, দুই পার্টির হাত মেলানোয় অখুশি অনেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তারা বিজেপিতেই আসবে। অন্যদিকে, দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও ধর্মেন্দ্র প্রধানকে কর্নাটকের পর্যবেক্ষক করে বেঙ্গালুরুতে পাঠানো হয়েছে।