রজনীকান্তের পছন্দের রং গেরুয়া হলে রাজনৈতিক জোট সম্ভব নয়ঃ কমল হাসান

0
99
Chennai: Tamil actor Kamal Haasan at a press conference to announce the launch of an app in Chennai on Tuesday. PTI Photo (PTI11_7_2017_000137B)

‘আশা করি, রজনীকান্তের পছন্দের রং গেরুয়া নয়।’ রবিবার মার্কিন মুলুকে ঠিক ভাষাতেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন সদ্য রাজনীতিতে যোগ দেওয়া অভিনেতা কমল হাসান। আমেরিকার হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় যোগ দিয়েছিলেন ৬৩ বছরের এই সুপারস্টার। সেখানে নানা কথা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘দুর্নীতিমুক্ত তামিলনাড়ু গড়াই’ তাঁর স্বপ্ন। তবে সেই কাজ করতে গিয়ে তিনি আদৌ তাঁরই সমসাময়িক আর এক সুপারস্টার রজনীকান্তের হাত ধরবেন কিনা, তা নিয়ে সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। এর কারণ তাঁদের রাজনৈতিক মতাদর্শের বিস্তর ফারাক। হাভার্ডের আলোচনা সভায় অন্তত এমন ইঙ্গিতই দিয়ে রাখলেন বর্ষীয়ান এই অভিনেতা তথা রাজনীতিক।
রাজনীতির ময়দানে আসার পর থেকেই কমল হাসান এবং রজনীকান্ত, তাঁরা দুজনেই নিজেদের ‘পরিবর্তনের এজেন্ট’ বলে দাবি করে আসছেন। দুজনরেই লক্ষ্য, তামিল সরকার ও প্রশাসনের সামগ্রিক উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা। গত ৩১ ডিসেম্বরই আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে প্রবেশের কথা ঘোষণা করেছিলেন রজনীকান্ত। আর তারপর থেকেই সকলের প্রশ্ন ছিল, তাহলে কি আসন্ন নির্বাচনে একসঙ্গেই লড়াইয়ে নামবেন রজনী-কমল? যদিও এখনই এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আসেনি বলেই এর আগে জানিয়েছিলেন কমল হাসান। প্রসঙ্গত, ই পালানিস্বামী সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অপদার্থতার অভিযোগ এনেই রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি।
রজনীকান্তের সঙ্গে রাজনৈতিক গাঁটছড়া বাঁধার প্রশ্নে কমল বলেন, ‘এটা কোনো ছবির চরিত্রাভিনেতা বাছাইয়ের ঘটনা নয়।’ তাঁর মতে, যদি তাঁরা দুজনেই যদি মনে করেন মানুষ এবং রাজনীতির স্বার্থে তাঁদের একসঙ্গে থাকা দরকার, তবেই তাঁরা একজোট হবেন। একইসঙ্গে কমলের মন্তব্য, ‘আমার রাজনৈতিক রং লাল নয় মোটেই। আর আমার আশা, রজনীকান্তেরও পছন্দের রং গেরুয়া নয়। কারণ, সেটা যদি হয়, তাহলে আমাদের মধ্যে সমঝোতা সম্ভব নয়। আসলে রাজনীতির ময়দানে একসঙ্গে চলতে হলে মতাদর্শও এক হওয়াটা ভীষণ দরকার। তবে আমরা খুব ভালো বন্ধু। কিন্তু রজনীকান্ত যদি তাঁর অবস্থান (গেরুয়া রাজনীতি) বদল না করেন, তাহলে তাঁর সঙ্গে আমার জোটের কোনও সম্ভাবনা নেই।’
প্রসঙ্গত, রুপোলি পর্দায় রজনী-কমল রেষারেষি নতুন কিছু নয়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই প্রতিযোগিতা রাজনীতির ময়দানেও অব্যাহত থাকবে। কারণ, বিজেপি-র সঙ্গে রজনীকান্তের সখ্য দীর্ঘদিনের। সাধু-সন্ন্যাসীতেও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। তার উপর তাঁর হিমালয় সফর তাঁকে আরএসএস-এর নজরে এনে দিয়েছে। এমনকি তিনি নিজে দাবি করেছিলেন, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত থেকে শুরু করে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ, কিংবা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, সকলের কাছেই তাঁর সহজ যাতায়াত রয়েছে।