কবিয়ালের আশা

0
38

হারিয়ে যেতে বসেছে কবিগানের আসর । শিল্পিদের কদর কমেছে দিনে দিনে । অনেক শিল্পীর সরকারি ছিঁটেফোঁটা সাহায্য মিলেছে ঠিকই । কিন্তু আজও অনেক তরজা শিল্পীরা অন্ধকারে।
তরজা শিল্পীদের মধ্যে যার গানের খ্যাতি ছিল গোটা সুন্দরবন জুড়ে, সরকারি সাহায্যের অভাবে অনঠনে হারিয়েছে তাঁর গান। এখন শিল্পীর গলায় বিদায়ের সুর, “আমার দুঃখের জ্বালা গিরিবালা আর কতো বাকি।”
দক্ষিণ সুন্দরবনের মথুরাপুর দুনম্বর ব্লকের কাশীনগর গ্রাম। এক চিলতে টালিঘরে বাস তরজা শিল্পী পঁচাশি বছরের কবিয়াল গোপালচন্দ্র হালদারের। ছোট থেকে গানের প্রতিছিল তাঁর তীব্র ভালোবাসা। মাত্র বারো বছর বয়সে কবিগানের তালিম ধরেন তৎকালীন স্বনামধন্য গোবিন্দ স্বর্ণকারের হাত ধরে। একটা সময় জঙ্গলে ভরা গোটা সুন্দরবন দাপিয়ে বেরিয়েছে তাঁর কন্ঠ। জেলা ছাড়িয়ে ভিনজেলা এমনকী, এপার বাংলা ছাড়িয়ে ওপার বাংলায় ছড়াল খ্যাতি। একের এক এক মেডেল, মেমেন্টো, সার্টিফিকেট সময়ের সাক্ষী হয়ে রয়ে গিয়েছে।
আজ রোগজীর্ণ শরীরকেড়ে নিয়েছে তরজা শিল্পীর কন্ঠের গান । স্ত্রী, ছেলে ভাগ্যোদয় হালদার ও বৌমা বৈশাখী হালদারকে নিয়ে কোনওক্রমে বেঁচে আছেন গোপালচন্দ্র। অভাবের জ্বালায় বেচে দিয়েছেন পুরস্কার। চিকিৎসা করার অবস্থাও নেই তার । মেলেনি সরকারি কোনও সাহায্য । ছেলেকে এই পেশায় আনেননি তিনি। সম্বল বলতে অতীতের স্মৃতি। কাঁপতে থাকা পায়ের তালে আজও গেয়ে চলেন নিজের তরজা গান । ছেলে, ছেলর বউয়ের আশা, সরকার বাহাদুর তাঁদের কথা শুনবেন। একদিন অভাব দূর হবে এই লোকশিল্পীর।