মন্দির থেকে বিপুল সোনার অলঙ্কার চুরি, ওসি ক্লোজ

0
133

কথায় আছে চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী। কালীপূজার রাতেই মায়ের গা থেকে গয়না চুরি করে পালালো চোর। তাও আবার একটি নয়। দুটো মন্দির থেকে উধাও প্রায় ১০০ ভরিরও বেশি বহুমূল্য গয়না। সঙ্গে টাকা ভর্তি প্রণামী বাক্সও। এর পরেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে গ্রামবাসীরা। জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। বীরভূমের সদাইপুর থানার চিনপাই গ্রামের ঘটনা। বিষয়টি নজরে আসে বৃহস্পতিবার সকালে। প্রথমে একটি মন্দিরে পূজা দিতে গিয়ে দরজার তালা ভাঙ্গা দেখতে পান গ্রামবাসীরা। মুহূর্তের মধ্যেই খবর ছড়িয়ে পড়ে। তারপরেই ছুটে যান দ্বিতীয় মন্দিরেও। সেখানে গিয়ে দেখেন একই অবস্থা। স্থানীয়দের বক্তব্য, দুই মন্দিরের সিদ্ধেশ্বরী কালীই খুব জাগ্রত। গ্রামবাসীরাই নাম দিয়েছেন বড় মা ও ছোট মা। কালীপুজো উপলক্ষ্যে সেজে উঠেছিল এই দুই মন্দির। দুই মা’কেই সাজানো হয় সোনার গয়না দিয়ে। কালীপুজোর দিন থেকে প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় পর্যন্ত সেই গয়না থাকে। খবর চাউর হতেই এলাকায় উত্তেজনা শুরু হয়। সকাল থেকেই রানীগঞ্জ-মোরগ্রাম ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন গ্রামবাসীরা। অভিযোগ, মন্দিরের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ব্যর্থ পুলিশ।

গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, মন্দির পাহারা দিতে মাত্র দু’জন করে সিভিককর্মী পাঠায় সদাইপুর থানা। প্রশাসনের গাফিলতিতেই এমনটা ঘটেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূজা উপলক্ষ্যে মন্দিরের সামনে মেলা বসেছিল। চলে বাউল গানের আসরও। পরে রাতে একটার দিকে পুলিশ গিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বলেন। এই নিয়ে মেলা কমিটির সঙ্গে সামন্য বাদানুবাদও সদাইপুরের ওসি রব খানের সঙ্গে। রাত ২টো থেকে ৪টের মধ্যেই চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে সকাল থেকেই জাতীয় সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় গ্রামবাসীরা। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়েও বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। খবর পেয়ে সিউড়ি থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী যায় ঘটনাস্থলে। পুলিশের কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করে উত্তেজিত জনতা। পুলিশের অফিসাররা মাইকিং করে জানান, দ্রুত সমস্ত গয়না উদ্ধারের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সেজন্য বিশেষ কমিটিও গঠন করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে ওসি রব খানকেও তাঁর দায়িত্ব থেকে সরানো হচ্ছে। তারপরেই নিয়ন্ত্রণে আসে পরিস্থিত। দুই সিভিক কর্মীকেও বরখাস্ত করা হয়েছে জানা গেছে।