অসহায় জাপানি বৃদ্ধারা চুরি করে জেলে যাচ্ছেন

0
97

কেউ দেখার নেই। খোঁজও নেয় না কেউই। তাই জাপানের বৃদ্ধারা অন্য পথে ধরেছেন। ছোটখাটো অপরাধ করে তারা চলে যাচ্ছেন জেলে। অন্তত সেখানে তো তাদের দেখভালের লোকজন আছে।
হিসেবে দেখা যাচ্ছে, জেলে বন্দি প্রতি পাঁচজন মহিলার একজনই বৃদ্ধা। তাদের ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই দোকান থেকে চুরি করে জেলে গিয়েছেন। গোটা দুনিয়ায় বৃদ্ধবৃদ্ধার সংখ্যা সবথেকে বেশি জাপানে। জনসংখ্যার ২৭ ভাগই ৬৫ বছরের বেশি বয়সের। ১৯৮০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে একা নিজের ভরসায় থাকা বয়স্কদের সংখ্যা ৬ গুণেরও বেশি বেড়ে হয়েছে ৬০ লাখ। সরকারি সমীক্ষা বলছে, দোকানে চুরি করে জেলে গিয়েছেন তাদের অর্ধেকই একলা থাকেন। ৪০ শতাংশের কোনও পরিবার বা আত্মীয়স্বজন নেই। আগে প্রবীণ দেখার জন্য পরিবারের মধ্যে বেশ চল ছিল। কিন্ত কর্মে আর্থিক অবনতির জন্য এখন আর তা অতটা হয় না। নিকটজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বৃদ্ধারা অপরাধের পথ বেছে নিচ্ছেন। যাতে জেলে একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়। তাদের কারও কারও হয়তো ঘর আছে, কিন্তু নিজস্ব কোনও জায়গা নেই। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী বৃদ্ধাদের অর্ধেকেরই এই অবস্থা। ৮০ বছরের এক বৃদ্ধা জানাচ্ছেন, ৭০ বছর বয়সে দোকানে চুরি করতে গিয়ে তিনি যখন ধরা পড়েন, তখন তাঁর মানিব্যাগে টাকা ছিল। কিন্তু তিনি ঘরে ফিরতে চাননি। জেলই ছিল একমাত্র ঠিকানা। সেখানে ভালোই আছেন তিনি। জেলে তাঁদের জন্য আলাদা সহায়ক আছে, তারাই নাইয়ে খাইয়ে দেয়। বয়স্কদের জন্য চিকিৎসার খরচও তাই বাড়ছে জেলের। ২০০৫ সালের তুলনায় তা বেড়েছে ৮০ শতাংশ।