ইতালির মাঝেরহাট

0
40

ঠিক একমাস আগে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়েছিল ইতালির জেনোয়ার মোরান্ডি সেতু। মারা গিয়েছিলেন ৪৩ জন। জেনোয়ায় শুক্রবার সকাল ১১টা ৩৬ মিনিটে পালিত হয়েছে এক মিনিটের নীরবতা।
ইতিমধ্যে নতুন ব্রিজের প্ল্যান তৈরি। কাজ শুরু হবে মাস কয়েকের মধ্যে। প্ল্যান বানিয়েছেন বিশ্বখ্যাত স্থপতি জেনোয়ার বাসিন্দা রেনজো পিয়ানো। খরচ জোগাচ্ছে অটোস্ট্রেড ডি ইতালি। ব্রিজ ভাঙার পর ট্রাফিক ব্যবস্থা পুরো ঢেলে সাজাতে হয়েছে। যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সড়কও বিধ্বস্ত হয়েছে ব্রিজের সঙ্গেই।
ট্রাফিক জ্যাম হলেও তা গোটা শহরকে অচল করে দেওয়ার মতো নয়। তবে দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের ব্যবসা বেশ মার খেয়েছে। কারণ সেখানে পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে। ইমারতি জিনিসপত্রের ব্যবসায়ী গুইসেপ্পে সেলেস্তির দোকান ভাঙা ব্রিজের গায়েই। তাঁর কথায়, “খুব কম লোকই আসেন এখন। একেবারে লোকসানের মুখে দাঁড়িয়ে আছি আমরা। আমি তো বলতে গেলে অবসরই নিয়েছি। কিন্তু এখানে কাজ করে কমবয়েসী দুজন। তাদের পরিবার আছে।” দর্শক কমে গিয়েছে জেনোয়া অ্যাকোয়ারিয়ামেরও। অন্তত অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। ব্রিজ ভাঙার চোট পড়েছে সেখানেও।
এক মাস পরে বন্দরনগরী জেনোয়া এখনও বিপর্যয় সামলে উঠতে পারেনি। যারা ঘর হারিয়েছেন, তাঁরা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে। ৫০ বছরের ইস্পাতকর্মী জিওভানি জেনকো জানাচ্ছেন, “সেদিন ঝড়বৃষ্টি হচ্ছিল। সকাল ১১টা ৩৬ মিনিটে ভয়ঙ্কর জোরে শব্দ শুনেও ভাবিনি ব্রিজটা ভেঙে পড়েছে।” ৯ বছরের মেয়েকে আর বউ, শ্বশুর-শাসুড়িকে নিয়ে পালিয়েছিলেন জিওভানি।
তাঁর মতো শয়ে শয়ে লোককে ব্রিজের আশপাশ থেকে সরে যেতে হয়েছে। একবারই ঘরে ফিরবেন তাঁরা কিছু দরকারি জিনিসপত্র আনতে। তারপর ভেঙে দেওয়া হবে বাড়িটি। তাঁর ক্ষোভ, ব্রিজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা অটোস্টেড ডি ইতালিয়া তাঁদের জীবনের ২০টা বছর নষ্ট করে দিয়েছে। ঘরই তো তাঁদের কাছে সবকিছু। সেখানেই তো তাঁর শৈশব, যৌবন কেটেছে।
আপাতত কাছেই একটা রাস্তার ধারে অস্থায়ী তাঁবুতে তাঁদের বাস। কয়েকটা চেয়ার, টেবিল আর একটা ফ্রিজ। একসঙ্গেই খাচ্ছেন, কথা বলছেন তাঁরা, তাঁদের মতো আরও অনেক ঘরছাড়াদের সঙ্গে। সরকারি খরচে মনোবিজ্ঞানীদের দেখাচ্ছেন তাঁরা। মন যাতে ভালো থাকে তার জন্য সরকারের উদ্যোগ।
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে এখন অবিশ্বাস, আতঙ্কের জায়গা নিয়েছে ক্রোধ আর ক্লান্তি। ব্রিজ জোড়া লাগলেও আর যে সবকিছু আগের মতো জোড়া লাগবে না, তা বুঝে নিয়েছেন গৃহহারারা। এবার বুঝে নিতে চান তাদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে যা যা প্রাপ্য।