নিষাদ, মাল্লা, মুসলিম, দলিতরা মুখ ফিরিয়েছেন, হার আদিত্যনাথেরই

0
996

গোরখপুরের ফল যে শুধু বিজেপির রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে রায় তাই নয়, যোগী আদিত্যনাথের কাছে এটা ব্যক্তিগত পরাজয়ও বটে। পাঁচবার এই লোকসভা কেন্দ্রে জিতেছেন যোগী। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর গতকাল পদত্যাগ করেছেন এই কেন্দ্র থেকেই। ভোটের প্রচারে তিনি নিজেই বলেছিলেন, এই উপ নির্বাচন ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সেমি ফাইনাল।
গোরখপুরের গোরখনাথ মঠের প্রাক্তন মোহন্ত দিগ্বিজয়নাথের আদলেই নিজেকে গড়ে তোলা আদিত্যনাথ সক্রিয়ভাবে যোগ দিয়েছিলেন রামমন্দির আন্দোলনে।
১৯৭০ থেকে এই কেন্দ্রেই জিতে আসছেন তিনি। তখন ছিলেন নির্দল। ১৯৮৯ সালের ভোটে লড়েন হিন্দু মহাসভার হয়ে। ১৯৯১ সালে থেকে বিজেপির প্রার্থী। যোগি লখনউ চলে যাওয়ার পর মঠের ওপর থেকে তাঁর কব্জা ঢিলে হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিষাদ ও মাল্লারা একচেটিয়া ভোট দিয়েছেন বিজেপির বিরুদ্ধে।
সাড়ে ১৯ লাখের এই কেন্দ্রে নিষাদ ও মাল্লারাই ২৩ ভাগ। মুসলিমরা আছেন ১৮ শতাংশ। দলিত আছেন সাড়ে তিন লাখ। সমাজবাদী পার্টি এখানে একজন নিষাদ নেতাকে প্রার্থী করেছিল। সেই প্রার্থী প্রবীণ নিষাদও হিন্দু কার্ড খেলতে পিছপা ছিলেন না। ভোটের আগে গিয়েছিলেন মঠেও। মুসলিমদের পিস পার্টি আর দলিতদের জনবাদী পার্টির সঙ্গে হাত মিলিয়ে সমাজবাদী পার্টি শেষপর্যন্ত বাজিমাত করল। অন্যদিকে, বিজেপি তাদের একসময়ের বিদ্রোহী প্রার্থী উপেন্দ্র শুক্লাকে দাঁড় করিয়েছিল, যিনি গোরখপুর লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে একটি বিধানসভা কেন্দ্রে হারিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থীকেই। গত লোকসভা নির্বাচনেও গোরখপুরে বিজেপির ভোট ছিল ৫১.৮ শতাংশ। সপা-বসপা মিলে ৩৮.৬ শতাংশ।