হাহাকার ইলিশের

0
837

নিম্নচাপের প্রভাবে অশান্ত সমুদ্র। উত্তাল ঢেউয়ে টিঁকতে না পেরে সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ করেই ফিরতে হচ্ছে মৎস্যজীবীদের। দিঘা, কাঁথি, শঙ্করপুর, পেটুয়া, উপকূলের সমস্ত লঞ্চ-ট্রলার গভীর সমুদ্র ছেড়ে উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। নিম্নচাপের জন্য ট্রলারগুলো কূলে ফিরতে বাধ্য হয়। হাওয়া অফিসের থেকে দুর্যোগ সঙ্কেত পেয়েই অধিকাংশ লঞ্চ-ট্রলার মোহনায় ফিরে এসেছে।
চলতি মরশুমে প্রকৃতির রুদ্ররোষের অসহায় শিকার মৎস্যজীবীরা। একে জালে সেভাবে মাছ উঠছে না, তার ওপর মরসুম শুরুর দেড়মাসের মধ্যে ৫ বার নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্তের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সতর্কবার্তা পেয়ে মাঝসমুদ্র থেকে বারবার ফিরে আসতে হয়েছে মৎস্যজীবীদের থেকে ট্রলার মালিক ও মাছ আড়তদারদের।
শ্রাবণ ফুরিয়ে গেলেও সেভাবে বৃষ্টির দেখা নেই এবার। আর বৃষ্টিসঙ্কটে ইলিশের সঙ্কটও দেখা দিয়েছে এবার। অন্যান্য মাছও সেভাবে জালে উঠছে না। ফলে মাছধরার খরচ তোলাটাই সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে মৎস্যজীবীদের কাছে। সামুদ্রিক মৎস্যজীবীদের কথায়, একবার গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে সব মিলিয়ে খরচের পরিমাণ প্রায় এক লক্ষ টাকা। কিন্তু এবার জুনের ১৫ তারিখ থেকে সমুদ্রে মাছ ধরা শুরু হলেও খুব একটা লক্ষ্মীলাভ হয়নি। উল্টে বেড়েছে খরচ।
এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে মৎস্যজীবীদের সমস্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে মাছের আকাল দেখা দেবে। এদিকে, প্রায় প্রত্যেকদিন জোয়ারের সময় ফুলে ফেঁপে ওঠে দিঘার সমুদ্র। উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ে গার্ডওয়ালের ওপর। ঘণ্টাখানেক ধরে চলতে থাকে জলোচ্ছ্বাস। সমুদ্রস্নানে জারি ছিল নিষেধাজ্ঞা।