অযোধ্যার ইতিবৃত্তান্ত

0
2533

১৫২৭ খ্রিস্টাব্দে প্রথম মুঘল সম্রাট বাবরের সেনাপতি মির বাঁকি অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ নির্মাণ করেন।
১৮৫৩ সালে প্রথম ধর্মীয় বিবাদের সূত্রপাত হয় এই মসজিদকে কেন্দ্র করে। তার ফলে ব্রিটিশ সরকার ভিতরের অংশে মুসলিম এবং বাইরের অংশে হিন্দুদের প্রবেশাধিকার নির্দিষ্ট করে দেয়।
১৮৮৫ সালে মন্দির নির্মাণের দাবি জানিয়ে ফৈজাবাদের জেলা আদালতে প্রথম মামলা দায়ের করেন মোহন্ত রঘুবর দাস।
১৯৪৯ সালে সেকানে রামের মূর্তি উদ্ধার হয়। মুসলিমরা অভিযোগ তোলে, মন্দিরের ভিতরে হিন্দুরা মূর্তি রেখে এসেছে। স্থাপত্যটিকে বিতর্কিত তকমা দিয়ে চিরতরের জন্য বন্ধ করে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার।
১৯৮৪ সালে রামের জন্মভূমিকে মুক্ত করার জন্য বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতৃত্বে গঠিত হয় রাম মন্দির কমিটি। তার নেতৃত্বে ছিলেন বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদবানি।
দু’বছর পর জেলা আদালতের বিচারক নির্দেশ দেন, হিন্দুদের পুজোর জন্য গেট খুলে দেওয়া হোক। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুসলিমরা বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটি তৈরি করেন। ১৯৮৯ সালে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বিতর্কিত কাঠামো লাগোয়া জমিতে রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে।
১৯৯০ সালে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের হাতে গম্বুজের কিছুটা ক্ষতি হয়। উত্তরপ্রদেশের সেসময়ের মুখ্যমন্ত্রী মুলায়ম সিং যাদব করসেবকদের উপর গুলিচালনার নির্দেশ দেন। রামমন্দির নির্মাণের সমর্থনে আদবানি রথযাত্রা বের করেন। পরের বছরই উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় আসে বিজেপি।
১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর হিন্দুত্ববাদীদের হামলায় গুঁড়িয়ে দেয় বাবরি মসজিদ। তার জেরে দাঙ্গায় প্রায় দু’হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ হারান।
১৯৯৮ সালে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসে বিজেপির জোট সরকার। প্রধানমন্ত্রী হন অটলবিহারী বাজপেয়ী।
২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে এলাহাবাদ হাই কোর্ট বিতর্কিত ওই কাঠামোকে তিন ভাগ করে উত্তরপ্রদেশের সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহী আখাড়া এবং রামলালা কমিটিকে। কাঠামোর কর্তৃত্ব যায় হিন্দুদের দখলে। এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়।
২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি অশোক ভূষণ এবং এন আবদুল নাজিরের বেঞ্চে ফের নতুন করে শুরু হয় অযোধ্যা মামলা।
২০১৯ সালের ৮ মার্চ বিচারপতি এফ এম কলিফুল্লা, আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর এবং আইনজীবী শ্রীরাম পঞ্চুকে নিয়ে তিন সদস্যের মধ্যস্থাকারী প্যানেল তৈরি করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এই বছরই ২ আগস্ট মধ্যস্থতার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ১৬ অক্টোবর শেষ হয় শুনানি।