উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন সহ ২০ চাকার যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

0
535

মাঝেরহাট ব্রিজ বিপর্যয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেই কমিটিতে রাজ্যের মুখ্যসচিব ছাড়াও রয়েছেন পূর্ত দফতর, পিডব্লুডি, সেচ দফতরের প্রধান সচিবরা। এছাড়াও রয়েছেন কলকতা পুলিশের ডিজি এবং পুলিশ কমিশনার। শুধু তাই নয়, থাকছেন বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়াররাও। তদন্তের রিপোর্ট পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও ব্রিজের সুরক্ষায় ২০ চাকার ভারী যানবাহনের চলাচল নিষিদ্ধ করা হবে। বৃহষ্পতিবার নবান্ন থেকে এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি বলেন, অনেক সেতুই ব্রিটিশ আমলের তৈরি। অনেকগুলি আবার আগেকার সরকারের। অনেক ক্ষেত্রেই নথি খুঁজে পেতে অসুবিধা হচ্ছে। তা সত্ত্বেও সমস্ত ঝুঁকিপূর্ণ সেতু মেরামতের ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত দেখভালের জন্য বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে মনিটরিং সেল তৈরি করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে সেতু, রাস্তাঘাটের স্বাস্থ্য রক্ষায় ২০ চাকা কিংবা তার বেশি ভারবাহী যান চলাচলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, প্রায় ২০টি সেতুর আয়ু পেড়িয়ে গেছে। উল্টোডাঙ্গা ব্রিজ, সাঁতরাগাছি ব্রিজ, ঢাকুরিয়া ব্রিজগুলিও দুর্বল হয়ে পড়েছে। অবিলম্বে সেগুলোর মেরামতির ব্যবস্থা করা হবে। শিয়ালদহ ব্রিজের তলা থেকে সাময়িকভাবে হকারদের অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হবে সংস্কার কাজের জন্য। আর মেট্রোরেলের কাজের জন্য মাঝের হাট সেতুর কোনও ক্ষতি হয়েছিল কিনা জানতেও পূর্ত দফতরকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, বুধবার গভীর রাতে উদ্ধার হয় আরও একটি মৃতদেহ। শেষ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল তিন। আর আহত হয়েছেন প্রায় ২৭ জন। যার মধ্য ১৪জন হাসপাতালে। মঙ্গলবার ব্রিজ ভেঙে মৃত্যু হয় বেহালার বাসিন্দা সৌমেন বাগের। বুধবার সারাদিন ধরে চলে ধ্বংস্তূপ সরানোর কাজ। সন্ধ্যায় উদ্ধার হয় দ্বিতীয় মৃতেদেহটি। গভীর রাতে উদ্ধার হয় শেষ দেহটি। মৃতদের নাম গৌতম মন্ডল ও প্রণব দে। জানা গেছে, দুজনেই মেট্রোরেলের ঠিকাকর্মী ছিলেন। এদিকে ব্রিজ বিপর্যয়ের জেরে কার্যত অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বেহালা। মাঝেরহাট, ব্রেসব্রিজ, তারাতলায় পৌঁছাতে অনেকটাই রাস্তা ঘুরে যেতে হচ্ছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের তরফে গাড়ির রুট পরিবর্তনের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ই-৪, ৭-এ, ৭-সি, ৭-ই, ৭-ডি রুটের গাড়ি হাওড়া স্টেশন থেকে ছাড়ার পর সোজা খিদিরপুর পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে যাবে। সেখানে থেকে ঘুরে যাবে ফ্যান্সি মার্কেটের দিকে। এর পর হাইড রোড, বাবুবাজার, ব্রেস ব্রিজ হয়ে তারাতলা। এর পর স্বাভাবিক রুট। যেসব গাড়ি পর্ণশ্রী, তারাতলা ডিপো এবং ব্রেসব্রিজ থেকে ছাড়বে সেগুলি সোজা তারাতলা ডিপো পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে যাবে। সেখান থেকে হাইড রোড, বাবুবাজার, ফ্যান্সি মার্কেট হয়ে খিদিরপুর। গাড়ি হাওড়া ও কলকাতা স্টেশন থেকে ছাড়ছে সেসবেরও যাত্রাপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে সূত্রের খবর, ব্রিজের ভাঙা অংশ মেরামত করে তিন থেকে চার মাসের মধ্য পুনরায় চালু করা সম্ভব বলে নবান্নে জানিয়েছেন পূর্ত সচিব।