জল নেই

0
45

জনস্বাস্থ্য কারিগরি বা পিএচই-র জল নিয়ে সমস্যা ছিল দীর্ঘদিনের। উদ্বোধনের পর থেকেই সরকারি পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটেছে হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তিনটি পাম্পে। গ্রীষ্ম হোক কিংবা বর্ষা, শীত হোক কিংবা অন্য কোন কাল, জল সমস্যার আজও মেলেনি কোনও সমাধান। বুলবুল ঘূর্ণিঝড়ের পর আরও জলসঙ্কটের মুখে হরিপুর গ্রামপঞ্চায়েতের ১৮টি বুথের প্রায় ছাব্বিশ হাজার বাসিন্দা।
একদিকে পুকুর, খাল-বিল পচা দুর্গন্ধের কালো জল। অন্যদিকে, পিএইচই-র জল না পাওয়ায় একমাত্র ভরসা গ্রামপঞ্চায়েতে গুটি কয়েক ডিপ টিউবওয়েলের জল। সঙ্কটের মুখে পরে ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী। দায় এড়াতে জলের স্তর কমেছে বলে দাবি বিধায়ক থেকে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির।
দক্ষিণ সুন্দরবনের নামখানা ব্লকের হরিপুর গ্রামপঞ্চায়েত। এই পঞ্চায়েতের ১৮টি বুথে ২৫৮৯৪ জনের বাস। খেটে খাওয়া মানুষের মূল জীবিকা বলতে মাছ ধরা, সঙ্গে চাষআবাদ।
২০১৪ সালে রাজ্যর জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের তরফে কোটি টাকা খরচ করে গ্রামপঞ্চায়েতে বসানো হয় তিনটি পাম্প। ঠিক ছিল, নির্মিত পাম্প হাউস থেকে প্রতিদিন তিনটি সময়ে সাত ঘণ্টা করে জল পাবেন গ্রামবাসীরা। ১৮টি বুথের মধ্য ৬টি বুথ প্রথম পরিষেবা পাবে। সেইমতো ৭১ হাজার মিটার জলের পাইপ লাইনের কাজ হয়। সবটাই ছিল ঠিকঠাক । ঘটা করে হয় উদ্বোধন । কিন্তু উদ্বোধনের কয়েকদিন পরেই বন্ধ হয়ে পরে জল সরবরাহ। তিনটি পাম্পের মধ্য দুটি পাম্প পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়ে। অভিযোগ, যন্ত্র বিকল নয় । জলের স্তর কমে যাওয়াতেই পাম্প দিয়ে উঠছে না জল। কারও ভাগ্য জোটে হাফ বালতি , তো কারও ভাগ্য আরও কম। কল থাকলেও জল পাওয়া যায় না বলে অনেকের দাবি। পড়ে থাকতে থাকতে ভুতুড়ে হয়ে উঠেছে পাম্প হাউসগুলি।
১২০০ মিটার পাইপ দিয়ে জল পাম্প করার কাজ শুরু হলেও কেন জলের স্তর পাওয়া যাচ্ছে না তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। তাহলে কি সঠিক দুরত্বে জলের পাইপ জলের স্তরে পৌছায়নি । বিষয়টি নিয়ে একমত নামখানা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কল্পনা মালি। বুলবুলের পর জেনারেটর দিয়ে চলছে যৎসামান্য জল সরবরাহর কাজ। বিষয়টি নিয়ে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরে জানিয়ে পরিষেবার আশ্বাস দিয়েছেন সাগরের বিধায়ক বঙ্কিম হাজরা।