হারিয়ে গেল ঢেঁকি

0
223

এল পিঠেপুলি উৎসব। কবির কথায়, আলু তিল গুড় ক্ষীর নারিকেল আর /গড়িতেছে পিঠেপুলি অশেষ প্রকার। কিন্ত পিঠে গড়ার প্রধান উপকরণ চালের গুঁড়োর কথা কবি বলেননি।
এখনকার যন্ত্রচালিত যুগে হারিয়ে যেতে বসেছে যার কাজ সর্বদাই ধানভানা সেই ঢেঁকি । ধান কোটা থেকে চাল গুঁড়ো করা সবই হত ঢেঁকি দিয় । পরিবারে আসা নববধুকেও ঢেঁকি দিয়েই চাল গুঁড়ো করতে হত । সেসব ইতিহাস।
পৌষ পার্বণে পিঠের স্বাদের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কারোর দ্বিমত নেই । চালের গুঁড়ো কীভাবে আসে আজকের বৈদ্যুতিক কলে ভাঙানো চালের যুগে সবাই ভুলে গেছে। ভিলে গিয়েছে মা-বোমেদের ধান কোটা , চাল গুঁড়ো করার অতি সরল ঢেঁকির কথা । কৃষিনির্ভর ভারতীয় জীবনে ঘরে ঘরে থাকত ঢেঁকি । আর পৌষপার্বণের সপ্তাহখানেক আগে থেকেই শুরু হয়ে যেত চাল গুঁড়ো করার কাজ। ঢেঁকি পার দিতেন, চালের গুঁড়ো চালতেন মহিলারাই। মস্ত এক কাঠের গুড়ির ওজনকে কাজে লাগিয়ে ধান ভাঙা ও চাল গুঁড়ো করার কাজ হত। গ্রামীণ অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ছিল এটি।
গ্রাম বাংলার আনাচে কানাচে অনেক খুঁজলে কোথাও কোথাও আচমকা দেখা মিলে যায় ঢেঁকি । সোনামুখী শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে নিত্যানন্দপুর গ্রাম। সেখানেই দেখা মিলল প্রচীনঐতিহ্য ঢেঁকির।
শোনা যায় অষ্টাদশ শতাব্দীর এক বাঙালি পথিক কোনও এক গৃহস্থের বাড়ির ঢেঁকিশালে রাত্রিযাপন করার সময় ওই গৃহস্থের বাড়িতে ডাকাত পড়ে। আশানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় নামে ওই ব্যাক্তি ঢেঁকিটা দুই হাতে তুলে নিয়ে ডাকাত দলকে মেরে তাড়িয়েছিলেন। তাঁর নামই হয়ে যায় আশানন্দ ঢেঁকি।