বিতর্কে কান্ট

0
27

মরেও রেহাই নেই ইমানুয়েল কান্টের। এষ্টাদশ শতকের এই দার্শনিককে নিয়ে উত্তেজনা রাশিয়ায়। তাঁর রাশিয়ার জন্মভিটের বিমানবন্দরের নাম তাঁর নামে রাখার প্রস্তাব নিয়েই গোলমাল। সরকারি অফিসাররা তাঁকে বলছেন বিশ্বাসঘাতক। তাঁর সমাধিতে রং ছুঁড়ছে প্রতিবাদকারীরা।
১৭২৪ সালে কান্টের জন্ম এবং বেড়ে ওঠার বেশিটাই প্রাশিয়ার কনিসবার্গে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শহরটি রাসিয়ার দখলে এলে তার নাম হয় কনিনগ্রাদ। এখন এটি রাশিয়ার পশ্চিম সীমান্তের শেষ শহর। গত বিশ্বকাপের খেলাও হয়েছে এখান।সেখানকার খাব্রোভো বিমানবন্দরের নাম কী হবে তা নিয়ে অনলাইন ভোটে এগিয়ে ছিলেন কান্টই। সরকারি অফিসাররা বলছেন, কান্ট ছিলেন রুশবিদ্বেষী। যদিও এর কোনও ঐতিহাসিক প্রমাণ মেলেনি।
সোশাল মিডিয়ায় এক রুশ নৌ অফিসার আবেদন করেছেন, জম্নভূমির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার জন্য কান্টকে ভোট দেবেন না। মাতৃভূমির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার জন্য কান্টকে একটি ভোটও নয়। গণভোটে এখন কান্ট নেমে গিয়েছেন সম্রাজ্ঞী এলিজাবেথ পেত্রোভনার থেকেও নীচে। ১৭৫৮ সালে সম্রাজ্ঞীর সেনা এই শহর দখল করেছিল। সেইসময় স্থানীয় বিশ্ববিদ্যলয়ে পড়ানোর জন্য কান্ট অনুমতি চেয়ে চিঠি লিখলেও সেটি তাঁর হাতে পৌঁছয়নি।
রুশ আঞ্চলিক প্রতিনিধি আন্দ্রেই কোলেনিস্ক বিমানবন্দরের জার্মানিকরণের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর মতে, ক্রিটিক অফ পিওর রিজনের লেখক কান্ট রাশিয়ার প্রতীক হতেই পারেন না। গত সপ্তাহে কান্টের সঙ্গে জড়িত তিনটি জায়গা সমাধি, স্মারক ভেঙে ফেলা হয়েছে। কান্টের যেখানে বাড়ি ছিল সেখানকার প্রস্তরফলকটিও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এমনকী, কান্টের সমর্থনে মিছিল করার উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে জেরা করেছে পুলিশ।
সেখানকার দর্শনের অধ্যাপকরা বলছেন, যারা আপত্তি করছে, তারা কান্টের বই পড়লেই বুঝতে পারত তাঁর মূল্যবোধ যে কোনও আধুনিক সমাজের মতোই। এমনকী রাশিয়ারও।