স্বাস্থ্য ভালো রাখবে রসুন

0
177

রক্ত পরিষ্কার রাখে
প্রতিদিন সকালে রসুনের দুটি কোয়া ও এক গ্লাস পরিমাণ গরম জল খেতে হবে। আর সারাদিনে প্রচুর পরিমাণ জল খেতে হবে। এতে রক্ত পরিষ্কার হয়, ত্বক ভালো থাকে। ওজন কিছুটা কমাতে চাইলে সকালে রসুনের সঙ্গে গরম জলে কিছুটা লেবুর রস দিতে হবে।
ঠান্ডা ও জ্বরে
প্রায়ই ঠান্ডা ও জ্বরে ভোগেন যাঁরা তাঁদের জন্য রসুন হতে পারে এক মহৌষধ। শরীর থেকে জ্বর আর ঠান্ডা দূর করতে প্রতিদিন দু-তিন কোয়া রসুন কাঁচা খেতে হবে। এ ছাড়া রান্না করা বা চায়ের সঙ্গেও রসুন খাওয়া যায়। আর রসুনের গন্ধ খারাপ লাগলে এর সঙ্গে আদা ও মধু মিশিয়ে নেওয়া যায়। এভাবে নিয়মিত খেলে শরীরে প্রতিরোধক্ষমতাও বাড়ে।
হৃদরোগ থেকে বাঁচতে
প্রতিদিন রসুনের কয়েকটি কোয়া কাঁচা বা আধা সিদ্ধ করে সেবনে কোলেস্টেরলের মাত্রা কম থাকে। আর রক্তচাপ ও রক্তে সুগারের পরিমাণ ঠিক রাখতেও কাজ করে রসুন। রসুনের মধ্যে থাকা সালফার-ভিত্তিক যৌগ অ্যালিসিন মূলত স্বাস্থ্যে এই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, রসুন কাঁচা খাওয়া সবচেয়ে ভালো। সিদ্ধ করা হলে অ্যালিসিনের ঔষধি গুণ কমতে থাকে।
জীবাণুঘটিত রোগ প্রতিরোধে
জীবাণুঘটিত রোগ প্রতিরোধে বহু বছর ধরেই রসুন ব্যবহৃত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের কৃমি দূর করতে রসুনের রস ভালো কাজ করে। রসুনের রস থেকে মাউথ ওয়াশ তৈরি করা যায়। এটি নিয়মিত ব্যবহারে মাড়িতে ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার বন্ধ হয়।
ক্যান্সার প্রতিরোধে
প্রতিদিন নিয়মিত কাঁচা ও রান্না রসুন খেলে পাকস্থলী ও কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ করা যায়। নিয়মিত রসুন খেলে সব ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়।
ত্বক ও চুলের যত্নে
নিয়মিত রসুন খেলে ত্বক সুন্দর হয় ও বয়সের ছাপ দূর হয়। এ ছাড়া ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে ত্বক সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত রসুন খেতে করতে হবে। আর চুল পড়া বন্ধ ও নতুন চুল গজাতে রসুন ভালো কাজ করে। এই উপকার পেতে মাথায় নিয়মিত রসুনের নির্যাস বা রসুন সমৃদ্ধ তেল ব্যবহার করতে হবে।
কাটা সারিয়ে তুলতে
রসুনের আরেক গুণ হল, এটা কাটা সারিয়ে তোলা। কাঠ বা বাঁশে ছোট টুকরো শরীরে কোথাও ঢুকে গেলে তা বের করে সেখানে রসুনের কোয়া কেটে লাগিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে শরীরের ওই অংশে ব্যান্ডেজ করে দিতে হবে। কয়েকদিনের মধ্যেই সেরে উঠবে ওই কাটা।
রসুন ব্যবহারে সাবধানতা
হাঁপানি রোগী বা শ্বাসকষ্ট আছে এমন ব্যক্তিরা রসুন ব্যবহারে সাবধান থাকুন। অনেক ক্ষেত্রেই রসুন ব্যবহারে এমন রোগীদের মধ্যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অপারেশনের আগে রসুন খাওয়া বন্ধ রাখতে হবে। আর চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দিনে দু-তিনটির বেশি রসুনের কোয়া খাওয়া যাবে না।