সরানো হচ্ছে রাজীব কুমারকে

0
8976

পুলিস কমিশনারের পদ থেকে রাজীব কুমারকে সরানোর সিদ্ধান্ত। কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০ ফেব্রুয়ারির আগে সরানো হতে পারে তাঁকে। ২০ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে চিটফান্ড মামলার শুনানি। তার আগেই সরানো হতে পারে রাজীবকে। ৩১ মে ২০১৯-র আগে যাঁদের ৩বছর পূর্ণ হচ্ছে, সেই সব অফিসারদেরও সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ২১মে ৩ বছর পূর্ণ হচ্ছে রাজীব কুমারের। তালিকায় রয়েছে অনুজ শর্মা, জাভেদ শামিম, মুরলীধর সহ একাধিক নাম। তবে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে খবর।
২১ মে ২০১৯ শেষ হচ্ছে কলকাতা পুলিস কমিশনারের কাজের মেয়াদ। তবে, কলকাতার পরবর্তী কমিশনার কে হবেন? তা নিয়ে এখন জল্পনা তুঙ্গে। ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে চারজনের নামের তালিকা। এবিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে মুখ্যমন্ত্রী দিল্লি থেকে ফেরার পরেই। দৌড়ে এগিয়ে আইজি আইনশৃঙ্খলা অনুজ শর্মা। তাঁর সঙ্গে টক্কর দিতে পারেন বিনীত গোয়েল। তবে তাঁকে নিয়ে কিছুটা হতাশ লালবাজার। সূত্রের খবর, বিনীতের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক আইপিএস মেডেল নিয়ে নেওয়ার যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সে ক্ষেত্রে কলকাতার পুলিস কমিশনারের দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছেন এই আইপিএস অফিসার। লালবাজার সূত্রের খবর, পরবর্তী পুলিস কমিশনার যিনি হবেন, সেই নামের ওপর সিলমোহর পড়বে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে ফেরার পরেই। যদিও আচমকা কলকাতা পুলিস কমিশনারের মেয়াদ শেষ হওয়ার যে বিষয়টি সামনে এসেছে সেই প্রসঙ্গে উলটো সুর রাজনৈতিক মহলের। বিরোধী রাজনৈতিক দলের অভিযোগ, মেয়াদ বিষয়টি একটি রাজনৈতিক খেলা। এর পিছনে রয়েছে অন্য রহস্য।
শিলং অকল্যান্ডের সিবিআই দফতরে সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে রাজীব কুমার শাসক দলের বেশ কয়েকজন প্রথম সারির নেতা, মন্ত্রীর নাম ফাঁস করেছেন। সেই ভয়েই তড়িঘড়ি রাজীব কুমারকে কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। যদিও লালবাজার এই দাবি মানতে নারাজ। লালবাজার সূত্রে খবর, পুলিস কমিশনারের পদের মেয়াদ একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্তই থাকে। প্রতিবারই সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী কমিশনার বাছার কাজ শুরু করা হয় রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে। এবারেও তার অন্যথা হয়নি। শিলঙে সিবিআইয়ের মুখোমুখি ৫ দফায় কলকাতা পুলিস কমিশনার রাজীব কুমারকে পড়তে হলেও লালবাজারের আস্থা এখনও বজায় রয়েছে তাঁর উপর। রাজীব কুমারের সঙ্গে শিলঙে থাকা এসটিএফের একাধিক আধিকারিকদের মন্তব্য, তাঁর বিকল্প আইপিএস আধিকারিক নেই এরাজ্যে। অত্যন্ত সৎ রাজীব কুমার। এসটিএফের এক আধিকারিকের কথায়, রাজনৈতিক খেলা যাই হোক, সিপি কখনই অন্যায় কিছু করতে পারেন না। ফলে ৪১ ঘণ্টায় ও ৫ দফা জিজ্ঞাসাবাদের পরেও লালবাজারের আস্থা অটুট রাজীব কুমারের উপর।