চারটি বৌদ্ধ বিহার

0
62

বাংলাদেশের মহাস্থানগড়ের ভাসুবিহার খননের সময় চারটি বৌদ্ধ স্তূপ মিলেছে। ওই স্তূপ দেখার জন্য প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ ভাসুবিহারে ভিড় করছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের গত দুই মাস ধরে খনন কাজে এটি বেরিয়ে আসে।
বিহারের সামনের অংশ খননকালে একই প্লাটফর্মে চারটি বৌদ্ধ স্তূপ পাওয়া যায়। এই স্তূপগুলো দশম থেকে একাদশ শতকে তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মং এবং বরেণ্য বৌদ্ধদের স্মরণে স্তূপগুলো নির্মাণ করা হয় বলে প্রত্নতত্ত্ব দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।
মহাস্থানগড় থেকে চার মাইল উত্তর-পশ্চিমে এবং বিহার বৌদ্ধ স্তূপ থেকে এক মাইল উত্তরে ভাসুবিহার বা বিশ্ববিহার অবস্থিত। ভাসুবিহার স্থানীয়দের কাছে নরপতির ধাপ নামেও পরিচিত। সম্রাট হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে ৬৩৮ সালে চিনা পরিব্রাজক হিউয়েনসাঙ এই স্থান পরিদর্শনে আসেন এবং এই বিহারে তিনমাস অবস্থান করেছিলেন। এই বিহারে একটি সুউচ্চ দ্বিতল বা ত্রিতল অথবা চারতল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। এখানে সাতশোরও বেশি বৌদ্ধ পণ্ডিত আবাসিক হস্টেলে থেকে শিক্ষাগ্রহণ করতেন। স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম ১৮৭৯-৮০ সালে ভাসুবিহার পরিদর্শন করেন। তিনি এটিকে হিউয়েনসাঙ বর্ণিত স্থান হিসেবে চূড়ান্তভাবে সনাক্ত করেন।
এগারো শতকে শৈবধর্মীদের উত্থানের ফলে বৌদ্ধদের প্রতি ঘৃণা, অবজ্ঞা ও শত্রুতায় বৌদ্ধরা ধর্মহীন সমাজে পরিণত হয়। ফলে ভাসুবিহারের চারতলা প্রাসাদটি পরিত্যক্ত হয়। দুর্বল পাল রাজাদের অনেকে রাজত্ব ছেড়ে শেষ জীবনে এখানে সেবক হিসেবে বসবাস করতে থাকে। সে জন্য এই বিহারের নাম হয় নরপতির ধাপ। পাল বংশ বিনাশপ্রাপ্ত হলে পতিত অবস্থায় বিহারটি ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়। ১৯৭৩-৭৪ সালে এই ধ্বংসপ্রাপ্ত বিহারটি প্রথমবারের মতো খনন করা হয়। বিভিন্ন সময়ে ভাসুবিহার ধাপ খনন করে সাতশোরও বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে।
সহকারী পরিচালক মজিবর রহমান জানান, প্রভাবশালী ও গুণী বৌদ্ধদের স্মরণে তাঁদের মাথার চুল ও দেহভস্ম এই বৌদ্ধ স্তূপে সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। খনন কাজ ও অনুসন্ধান আরও কিছুদিন চলবে বলে তিনি জানান। (ইত্তেফাক)