ট্রেন বন্ধের চারদিন পর থামল এক্সপ্রেস ট্রেনের চাকা!

0
2142

গত ২২ মার্চ জনতা কার্ফু লাগু হওয়ার মাত্র একঘন্টা আগেই উত্তর পূর্ব ভারতের ডিব্রুগড় স্টেশন থেকে ছেড়েছিল ট্রেনটি। এরপর একে একে সাতটি রাজ্য পেরিয়ে সেটি থামল চারদিন পর বুধবার বিকেলে। ততক্ষণে জনতা কার্ফু, রেল পরিষেবা বন্ধ সহ গোটা দেশ লকডাউন করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবুও সচল ছিল এই ট্রেনের চাকা। এটি ১৫৯০৬ বিবেক এক্সপ্রেস, ভারতের দীর্ঘতম যাত্রীবাহী ট্রেন। অসমের ডিব্রুগড় থেকে ভারতের দক্ষিণতম বিন্দু বা শহর কন্যাকুমারী পর্যন্ত চলাচল করে। ৪,২০৫ কিমি পথ অতিক্রম করে চারদিন পর যখন কন্যাকুমারী পৌঁছায়, তখন ট্রেনে একজনও যাত্রী ছিলেন না বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে। কারণ তামিলনাড়ু সরকার কন্যাকুমারীর আগে পালঘাট স্টেশনে মহিলা ও শিশু সহ প্রায় ১৫০ জন যাত্রীকে ওই ট্রেন থেকে নামিয়ে নেয়। তাঁদের স্থানীয় ভিক্টরিয়া কলেজে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ফলে পুরো ফাঁকা রেক নিয়েই শেষপর্যন্ত বিবেক এক্সপ্রেস কন্যাকুমারী স্টেশন পৌঁছায়। তবে রেল সূত্রে খবর, এই ট্রেনে বেশিরভাগ সিটই ভর্তি ছিল। শেষের দিকে এসেও ৫০ শতাংশ সিট পূর্ণ ছিল। লকডাউনের আগে এই শেষ ট্রেনের যাত্রীদের জন্য কেরল সরকারও বিভিন্ন ব্যবস্থা রেখেছিল। যাত্রীদের জন্য খাবার, জল ও বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। গোটা দেশজুড়ে যখন যাত্রীবাহী ট্রেন বাতিল করা হয়েছে আগামী ১৪ এপ্রিল মধ্যরাত্রি পর্যন্ত, তখন এই একটি ট্রেনই সচল ছিল বুধবার বিকেল পর্যন্ত।
অপরদিকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে পর্যন্ত হাসপাতাল ও ভেন্টিলেটর নেই, ওই অঞ্চলের জন্য উদ্যোগী হল রেলমন্ত্রক। করোনা ভাইরাসের চিকিৎসা পরিকাঠামো নেই এমন অঞ্চলে রেলের কামরাকেই কোয়ারেন্টিন সেন্টার করার পরিকল্পনা নিল রেল। পাশাপাশি রেলের কামরাতেই গড়ে তোলা হবে ভেন্টিলেটর সিস্টেম। রেলমন্ত্রী পীযুষ গয়াল জানিয়েছেন, মর্ডান কোচ ফ্যাক্টরি কাপুরথালা এলএইচবি কোচ হাসপাতালের ধাঁচে তৈরি করছে। যেখানে আইসোলেশন ওয়ার্ড হিসেবে করোনা আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের রাখার ব্যবস্থা করা হবে। আবার ট্রেন-১৮ প্রস্তুতকারী সংস্থা আইসিএফ চেন্নাইকে এলএইচবি কোচের মধ্যে ভেন্টিলেটর সিস্টেম বসানোর বরাত দেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ কামরাগুলি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী।