সাতমাস আগেই মৃত্যু হয়েছে ছেলের, শোক ভুলে বৌমার ফের বিয়ে দিলেন শ্বশুর

0
5764

এক বছরও হয়নি ছেলের মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু শোকের মাঝেও নিজের কর্তব্যে অবিচল থাকলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা ব্লকে বাড়জিশুয়া গ্রামের মুকুন্দ মাইতি। নিজ হাতে সম্প্রদান করলেন স্বামী হারানো বৌমার। নিজের মেয়ের মতোই দাঁড়িয়ে থেকে বিয়ে দিলেন বৌমা উমার। এমনকি বিয়ে-বৌভাতের যাবতীয় খরচও বহন করে মানবিকতার এক অনন্য নজীর গড়লেন মুকুন্দবাবু। গত ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে মহীশুর থেকে মহীশূর হাওড়া এক্সপ্রেসে কাজ সেরে বাড়ী ফেরার পথে ভুবনেশ্বরে ট্রেনেই মৃত্যু হয় তাঁর ছেলে অমিত মাইতির। তারপর প্রায় সাত মাস নিজের মেয়ের মতোই মুকুন্দবাবু তাঁর বৌমা উমাকে বাড়ীতে রেখেছিলেন। অবশেষে নিজ উদ্যোগে পাঁশকুড়া ব্লকের শ্যামসুন্দরপুর পাটনা এলাকার বাসিন্দা স্বপন মাইতির সঙ্গে বিয়ে দিলেন মঙ্গলবার।

পাঁশকুড়ার ভবতারিনী মন্দিরেই চার-হাত এক করেছেন তিনি। বৌভাতের অনুষ্ঠানও হয়েছে সেখানেই। মেনুতে ছিল ভাত, ডাল, মাছ, মাংস, চিংড়ি পোস্তু থেকে দই মিস্টি সবই ছিল। চারিদিকে আলোর রোশনাইয়ের মাঝে চোখের জলে বৌমাকে বিদায় দিলেন মুকুন্দবাবু। যদিও বৌমা উমা মাইতি বলেন উনি আমার শ্বশুরমশাই নন স্বয়ং আমার বাবা। নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন উনি। মাত্র ১৯ বছরেই বিধবা হয়ে যাওয়া একমাত্র বৌমার জন্য কয়েকমাস আগে থেকেই নতুন করে পাত্র খুঁজতে থাকেন মুকুন্দ মাইতি। শেষ পর্যন্ত শ্যামসুন্দরপুর পাটনা এলাকার বাসিন্দা স্বপন মাইতি সব জেনেশুনেই উমাকে বিয়ে করতে রাজী হন। অন্যদিকে তাঁর মেয়ের শ্বশুরের এই মানবিক দিক দেখে অবাক উমার বাপের বাড়ির লোকজনও। সবকিছু ভালোভাবে মেটার পর নতুন জীবনসঙ্গীকে নিয়ে নতুন শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হল উমা।