কৃষকের ঋণমকুব উত্তরপ্রদেশে, টাকার অঙ্ক জানলে চোখ কপালে উঠবে

0
16

উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকি, এটাওয়া এলাকার কৃষকদের ঋণ মকুব হয়েছে। কাগজপত্র হাতে পেতে শুরুও করেছেন তাঁরা। সরকারি কাগজে টাকার পরিমাণ দেখে তাঁদের চোখ কপালে উঠেছে। জানলে চোখ কপালে উঠবে আপনাদেরও। মকুব হওয়া টাকার পরিমাণ কারও ১০ টাকা, কারও ১৮ টাকা। কেউ কেউ অবশ্য বেশিও পেয়েছেন। ১০০- ২০০ টাকার শিকে ছিঁড়েছে যাঁদের কপাল ভাল তাঁদের।
ক্ষমতায় এসেই ৩৬ হাজার কোটি টাকা কৃষিঋণ মকুব করার কথা ঘোষণা করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। যোগীর ঋণ মোচন যোজনায় উপকৃত হওয়ার কথা ছিল ১২ লক্ষ প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের। বলা হয়েছিল, কৃষিক্ষেত্রে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষীদের ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ মকুব করা হবে। কিন্তু বাস্তব ছবি বলছে অন্য কথা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের শতাধিক কৃষক ঋণ মকুবের নামে শুধু হয়রানির শিকার হতে হয়েছে । অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ঋণ মকুবের সার্টিফিকেট মিললেও মকুব হওয়া ঋণের অঙ্ক দেখে অনেকেরই চক্ষু চড়কগাছ। যার লক্ষাধিক টাকা ঋণ রয়েছে তাঁর ঋণ মকুব করা হয়েছে ১২ টাকা। আবার কারও ঋণ মকুব করা হয়েছে ৩০ টাকা, কারও বা ঋণ মকুব হয়েছে ১০০-২০০ টাকা।
অথচ এঁদের সকলের হাতেই ঘটা করে ঋণ মকুবির সার্টিফিকেট তুলে দিয়েছিলেন রাজ্যের কোনও না কোনও মন্ত্রী। ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে দিনের পর দিন ব্যাঙ্কের চক্করও কাটতে হয়েছে কৃষকদের। অনেকেই অভিযোগ করছেন মরশুমের ব্যস্ত সময়ে চাষের কাজ ছেড়ে ব্যাঙ্কের চক্কর কাটতে কেটে গিয়েছে অনেকটা সময়, যার ফলে ক্ষতি হয়েছে চাষের কাজে। ক্ষতি স্বীকার করেও ঋণ থেকে মুক্তি পাওযার আশায় বুক বেধেছিলেন বারাবাঁকি, এটাওয়ার কৃষকরা। বিরোধীরা বলছেন, ঋণ মকুবের নামে উত্তরপ্রদেশ সরকার কৃষকদের সঙ্গে নিষ্ঠুর পরিহাস করছে। তাঁদের অভিযোগ, কৃষকদের ঋণ মকুবের কোনও সদিচ্ছাই সরকারের নেই। যদিও, সরকারের দাবি, ছাপার ভুলের জন্যই যত গড়বড়। আধিকারিকদের গাফিলতির তত্ত্বও অবশ্য একেবারে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
কদিন আগেই এটাওয়া মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে ওঠা গাফিলতির অভিযোগ অস্বস্তি বাড়়িয়েছিল যোগী সরকারের। সম্প্রতি গোরক্ষপুরের বিআরডি মেডিক্যাল কলেজে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় রীতিমত চাপে বিজেপি। এর মধ্যে ঋণ মকুব নিয়ে এ হেন গাফিলতি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের অস্বস্তি আরও বাড়াল ।