পাখি তাড়াতে ঈগল

0
42

পাখির বিষ্ঠায় প্রাণ ওষ্ঠাগত রোমের। আকাশে অজস্র বিরক্তিকর পাখপাখালি। তারা শহর নোংরা করছে। বিরক্ত নাগরিক থেকে পর্যটক সবাই। রোমের নগর কর্তৃপক্ষ তাই কাজে লাগাচ্ছেন ঈগলকে। তাদের ধারণা, একমাত্র ঈগলই পরিত্রাণের উপায়। তারাই ওই পাখিদের ভয় দেখিয়ে তাড়াতে পারে। গোটা শহরজুড়ে পক্ষীবিষ্ঠায় ফুটপাথ ভরে থাকছে। বিশেষকরে, বৃষ্টির সময় অবস্থা আরও খারাপ হয়। তবে কয়েক সপ্তাহ ধরে জমে থাকা বিষ্ঠা এই সপ্তাহের প্রবল বৃষ্টির তোড়ে খানিকটা পরিষ্কার হয়েছে।

সোমবার কিছু রাস্তা বন্ধ করে দিতে হয়। সেখানে পাখির মল আর বৃষ্টির জলে পিছল কাদা হয়ে গিয়েছে। তাতে গাড়ির ড্রাইভার, পথচারী সকলেরই অসুবিধা। রোমের ঐতিহাসিক ভবনগুলির উপরে গাদা গাদা পাখি উড়ছে, এটা একটা অতি পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু তা থেকে এমন গুরুতর সমস্যা হয়, তা কে জানত!

অনেকদিন ধরেই ঈগল দিয়ে পাখি তাড়ানোর চেষ্টায় রয়েছে পুরসভা। রোমের পরিবেশ দফতর জানাচ্ছে, এক একটা গাছের ওপর ঈগল রাখা হবে। এই সমস্যার সমাধানে এটাই একমাত্র নিষ্ঠুরতাহীন পরিবেশবান্ধব সমাধান। তারা পাখিদের তাদের ডাকে বিরক্ত করে এলাকাছাড়া করে দেবে। চালু পন্থা ছিল ওই ডাকের রেকর্ড বাজানো।

আগে পেরেগ্রিন ঈগল রোমের আকাশে প্রায়ই দেখা যেত। কিন্তু সাতের দশকে ডিডিটির নতো কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহার নষ্ট করে দিয়েছে ঈগল পাখির ডিম। ১৯৭৮ সালে ডিডিটি নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে আবার দেখা মিলছে ঈগলদের।
অনুমান করা হচ্ছে, রোমে এখন ২০ জোড়া ঈগল রয়েছে। তারা থাকে টেলিফোনের খাম্বা কিংবা সুপিয়েঞ্জা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদে। ফ্লেরেন্সের ঘণ্টাঘরেও ঈগলের বাসার দেখা মিলেছে। এছাড়া, শহরের ঘাস ছাঁটার জন্য নামানো হচ্ছে ভেড়াদেরও। গাঙচিল আর ইঁদুরদের নসবন্দির কথাও ভাবা হচ্ছে।