বই পড়বই

0
80

এই ইন্টারনেট, ফেসবুক আর টুইটার, অ্যামাজনের যুগে কি শেষমেশ হারিয়েই গেল বই পড়া। বেঁচে আছে কি বই।
সোমবার বিশ্ব গ্রন্থদিবসে বারবার সামনে এসেছে এই জরুরি প্রশ্নটাই। তথ্য বলছে, লাগোসে বাসের ভিতরে, নেদারল্যান্ডে জাহাজের কন্টেনারে কিংবা কলোম্বিয়ায় গাধার পিঠে এখনও জীবন্ত চলমান পাঠাগার। ই-বুকের বাড়বাড়ন্তের মধ্যেও বুকমোবাইল বা চলন্ত লাইব্রেরির উদ্যোক্তারা মোটেই হতাশ নন। নাইজেরিয়ায় আইরিড বাস প্রতি সপ্তাহে লাগোসের বিভিন্ন স্কুল বা কমিউনিটি সেন্টারে ৪৪ বার যায়। ১৩ হাজার বই ভর্তি দুই বাক্স বোঝাই বই নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাওয়া থেকে শুরু করে আজ তাদের ৪টি বাস। উদ্দেশ্য হল, লাইব্রেরিই যাবে বাচ্চাদের দোরগোড়ায়।
বিবলিব্যুরো তৈরি করার পর কলোম্বিয়ার সোরিয়ানো তাঁর গাধাদের নাম দিয়েছেন আলফা আর বিটো। বিবলি মানে স্প্যানিশে বই, বুরো মানে গাধা। গোড়ায় গোড়ায় গাধার পিঠে তাঁকে দেখে সব্বাই হাসাহাসি করত। আজ থেকে ২০ বছর আগে যাত্রা শুরু বিবলিব্যুরোর। পেশায় শিক্ষক সোরিয়ানোর ইচ্ছে, সবাই বই পড়ুক, বড়ো হোক। কলোম্বিয়ার পাহাড়ে এলাকা ম্যাগডালেনায় তখন গাড়িই যেত না। তাই সহায় ছিল দুটো গাধা। আজ সোরিয়ানোর ২০ জন কর্মচারী। অনেক গাধা, একটা পাকা বাড়ির লাইব্রেরি, এমনকী ডিজিটাল প্রোগ্রামও।
যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত সিরিয়ায় বই পড়ার সময় কোথায়। টানা আটবছর ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারেনি। গত জুলাইয়ে সে দেশের আলেপ্পো আর ইদলিবের বাচ্চারা দখল একটা অবাক করা জিনিস — একটা বইভর্তি রঙচঙে ভ্যান। গৃহযুদ্ধে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিভিন্ন স্কুল, মসজিদ ঘুরে তারা বই দেয়, পড়ার অভ্যেস চালু রাখতে। গত অক্টোবরের হিসেবে প্রতি তিনটি স্কুলের একটি বন্ধ, সাড়ে ১৭ লাখ ছেলেমেয়ে স্কুলে যেতে পারে না। তাই মোবাইল ভ্যানের বই পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়ে খুদেরা। মোবাইল ভ্যান প্রকল্পের ৭ জন বই পৌঁছে দিচ্ছেন ৪ হাজার পড়ুয়াকে। বোমা, মিসাইলের হাত থেকে বই বাঁচাতে গোপন লাইব্রেরিও বানিয়ে ফেলেছেন তাঁরা। সংগ্রহে আছে ২০০০ ছোটদের বই।
নেদারল্যান্ডের জান এলাকায় মোবাইল বাস বিয়েববাস ৪ থেকে ১২ বছরের বাচ্চাদের উপযোগী বই নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ১২ মিটারের বাসটির ডিজাইন জাহাজের কন্টেনারের মতো, যা সপ্রসারিত হতে পারে। তখন সেটি হয়ে যায় কাচের মেঝের পড়ার জায়গা, আছে কম্পিউটারও। তখন একটা পুরো ক্লাসরুমের সমান জায়গা হয় তাতে। সরু রাস্তায় যাতে অবাধে ঢুকতে পারে তাই বাসের নকশা তৈরি হয়েছে সেভাবেই। এখন রোজ তিনটি বিয়েববাস পৌঁছে যাচ্ছে ১০ হাজার স্কুলপড়ুয়ার কাছে। বিনা পয়সায় বই পড়ার সুযোগ দিতে, ভবিষ্যতের পাঠক তৈরি করত।