পুজো শুরু পুজোর শেষে

0
65

সবার যখন পুজো শেষ, তখনই পুজোর আনন্দ শুরু হয় পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের মুরারীকালুয়ার বারিকপাড়ায়। জীবিকার তাগিদে একটু বেশি রোজগারের আশায় বিশ্বকর্মা পূজোর পরেই এই পাড়ার পুরুষরা ঢাক কাঁধে নিয়ে পাড়ি দেয় কলকাতা, কেউ ভিন রাজ্য,আবার কেউ প্রতিবেশি দেশ নেপালে। বাড়ি ফেরা সেই লক্ষ্মীপুজোর আগের দিন।
আর তখন পূজো শুরু হয় বারিকপাড়ায়। উসৎবের আনন্দে যখন গোটা বাংলায় আলোর রোশনাই এ ভরে যায় তখন বারিকপাড়ার ২২টি পরিবারে সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বলে। তাদের আসল উৎসব শুরু হয় লক্ষ্মীপুজো থেকে।
তমলুক শহর থেকে প্রায় ৭ কিমি দূরে ওই ছোট্ট গ্রামের এই পাড়ার ২২ টি পরিবার বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠানে ঢাকের বাজনা বাজিয়ে, আর উৎসব না থাকলে বাঁশের ঠাকা কুলো তৈরি করে আবার কেউ কেউ দিনমজুরের কাজ করে কোনরকমে সংসার চালান। কিন্তু পুজোর সময় একটু বেশি রোজগারের আশায় সিংহভাগ ঢাকিই পাড়ি দেন ভিন রাজ্যে। বিশ্বকর্মা পূজোর পরেই এরা রওনা দেন ওড়িশা, নাগপুর, বেঙ্গালুরু, মুম্বইয়ের পুজোমণ্ডপগুলোর উদ্দেশে।
তাদের ঢাকের বাদ্যিতে যখন ঐ দূর দেশের মন্ডপগুলি উৎসব মুখর হয়ে ওঠে,তখন বারিকপাড়ার শিশু, বৃদ্ধ মহিলারা অপেক্ষা করে থাকে কখন ফিরবে তাদের ঘরের মানুষটি। আর তারা ফেরা মানেই তে উৎসব আনন্দের শুরু। কয়েকটা দিন সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের মুখ দেখা।
পূজো শেষে ঢাক কাঁধে বাবা-কাকারা বাড়ি ফিরলে ছোট্ট ছোট্ট ছেলে মেয়েদের মুখে ফুটবে হাসি, উৎসব শেষে পরনে জুটবে নতুন জামা। হয়তো তারা পূজোর আনন্দটা পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন না, কিন্তু পূজোর শেষে ছেলেমেয়েদের হাতে নতুন জামা তুলে দিতে পারেন এটাই যেন ওদের পরম পাওয়া।